যুদ্ধের সুবিধা পাচ্ছে করাচি বন্দর

-মনিটর অনলাইন Date: 31 March, 2026
যুদ্ধের সুবিধা পাচ্ছে করাচি বন্দর

ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো জাহাজের রুট পরিবর্তন করে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। ফলে করাচির বন্দরগুলোয় কনটেইনার ট্রাফিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বন্দরে জাহাজের দীর্ঘ সারিও তৈরি হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে জ্বালানি খাতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং উপসাগরীয় জলসীমায় জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে লজিস্টিক কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

পাকিস্তান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে করাচি বন্দরে কনটেইনার ট্রানশিপমেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬০টিতে। ২০২৫ সালজুড়ে যা ছিল ৮ হাজার ৩০০টি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে পাকিস্তান ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথের বাইরে বিকল্প আঞ্চলিক ট্রানশিপমেন্ট হাব হিসেবে উঠে আসছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে করাচি ও গ্বদার —উভয় বন্দরই পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলপিজি বাণিজ্যে সুবিধা পাচ্ছে।

এই পরিবর্তনকে সহায়তা করতে সরকার নানা নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দরের চার্জ কমানো, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পণ্য দ্রুত খালাস করা এবং সামুদ্রিক ও লজিস্টিক খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশে বিশেষ উপকমিটি গঠন করা।

পাকিস্তান টেক্সটাইল এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিটিইএ) প্রধান খুররম মুখতার বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ট্রানশিপমেন্ট কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিটিইএ প্রস্তাব দিয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করা উচিত। এই ইউনিট আমদানি-রপ্তানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করবে। ইউনিটটি ‘কন্ট্রোল টাওয়ার’ হিসেবে কাজ করবে। ফলে বন্দর, টার্মিনাল, শিপিং লাইন ও ট্রানশিপমেন্ট হাবের জট শনাক্ত করে দ্রুত সমন্বয় সাধন করা যাবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বন্দর, টার্মিনাল অপারেটর, শিপিং লাইনসহ সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের জন্য সার্ভিস লেভেল বেঞ্চমার্ক নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে পণ্যের অবস্থানকাল কমানো, কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব শিপিং লাইনের জন্য বাধ্যতামূলক অগ্রিম কার্যাদেশের সুপারিশও করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শিপিং রুটে পরিবর্তনের ফলে উপসাগরীয় লজিস্টিক হাবগুলোর সঙ্গে নতুন সংযোগ গড়ে উঠছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রানশিপমেন্ট বাড়তে থাকায় করাচি ধীরে ধীরে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক লজিস্টিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তশালী করছে।

করাচি গেটওয়ে টার্মিনাল (কেজিটিএল) জানিয়েছে, চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ ও খোর ফাক্কান বন্দরের সঙ্গে করাচিকে যুক্ত করে নতুন সার্ভিস চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় ট্রানশিপমেন্ট হাবগুলোর মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার হবে।

অন্যদিকে করাচি পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) শহীদ আহমেদ বলেছেন, ‘আঞ্চলিক হাবগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী সংযোগ পণ্য পরিবহন আরও সহজ করবে। এই ফিডার সার্ভিস চালু হওয়ায় করাচি বন্দরের আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামুদ্রিক যোগাযোগ জোরদার হলে পণ্য পরিবহন আরও মসৃণ হবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি হবে।’

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor