বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ

-মনিটর রিপোর্ট Date: 13 April, 2026
বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ

ঢাকাঃ  আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা বছরের শেষ দিন, চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ, যার মাধ্যমে শেষ হচ্ছে পুরনো বছরের পথচলা এবং শুরু হচ্ছে নতুন বছরের প্রস্তুতি। 

এই দিনটি বাংলার লোকজনের জন্য এক বিশেষ আনন্দের দিন, যা "চৈত্র সংক্রান্তি" নামে পরিচিত। চৈত্র সংক্রান্তি শুধুমাত্র একটি ঐতিহ্যবাহী তিথি নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চৈত্র মাসের শেষ দিনে বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই দিনটি বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, মেলা, খেলা এবং আনন্দ-উল্লাসে ভরে ওঠে। পিঠে-পুলি, সন্দেশ, রসগোল্লা, চিতই পিঠা ইত্যাদি মিষ্টান্নের সাথে এই দিনটি উদযাপিত হয়। বাড়ির আঙিনায় পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি করে এবং একে অপরকে খাওয়ায়।

আসন্ন বাংলা নববর্ষের প্রস্তুতিও শুরু হয় আজ থেকেই। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) শুরু হবে বাংলা বছরের প্রথম দিন, যা "বৈশাখী উৎসব" হিসেবে পরিচিত। তবে চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি সেইসব মানুষের জন্যও বিশেষ, যারা বছরের শেষদিনের সাথে নিজেদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে চান। সারা বছর ধরে অনেক কঠিন কাজের পর, এই দিনটিতে এক ধরনের মানসিক বিশ্রাম নেন তারা।

শহরেও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রচুর কেনাকাটা চলে। বিভিন্ন দোকানপাটে ডিসকাউন্টের পাশাপাশি বিশেষ অফারও থাকে। দোকানিরা তাদের পুরনো পণ্যগুলো বিক্রি করতে শুরু করে, এবং নতুন বছরের জন্য নতুন পণ্য আনা হয়।

এই ঐতিহ্যবাহী দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়ের সাথে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্পর্কের যে গভীরতা, তা কখনোই ফুরোয় না। চৈত্র সংক্রান্তি আমাদের শিখায়, পুরনোকে সম্মান জানিয়ে নতুনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হবে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে। 

এরই অংশ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, যা বয়ে আনবে উৎসবের সম্মিলিত স্পন্দন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য যেন ঐতিহ্যের ছন্দে দর্শকদের আবিষ্ট করবে। 

অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় পরিবেশিত হবে লোকসংগীত জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করবে। লোকসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগাবে গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ। 

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor