কক্সবাজার : সাগরের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন এলাকার বালিয়াড়ি ধসে পড়েছে, উপড়ে গেছে কয়েক হাজার ঝাউগাছ।
সমুদ্রসৈকতে থাকা পুলিশ বক্স, ওয়াচ টাওয়ারও ভাঙনের শিকার হয়েছে। সৈকতের পাশের একাধিক রেস্তোরাঁ ও ভবনে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ভাঙনের মুখে রয়েছে
দেশের একমাত্র মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই জিও ব্যাগ বসিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তাতে স্থায়ী সমাধান হয় না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উপযুক্ত বাঁধ ছাড়া কক্সবাজার সৈকত রক্ষা করা সম্ভব নয়।
কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের একটি বিশেষ ইউনিট।
ভাঙন ঠেকাতে বিগত বছরগুলোয় বিভিন্ন সময় জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করা হলেও তা জলোচ্ছ্বাসে টিকছে না। জোয়ারের সময় শক্তিশালী ঢেউ জিও ব্যাগ ডিঙিয়ে ফসলি জমি পর্যন্ত লবণাক্ত পানি পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রসৈকত ধরে সড়কটি ২০১৭ সালের ৬ মে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মোহনীয় সৌন্দর্যের মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন করা হয় ।
গত দুই বছরের ব্যবধানে টানা ৩ দফায় ভাঙনের কবলে পড়েছে মেরিন ড্রাইভের একই অংশ। প্রতিবারই স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সাময়িক জিও ব্যাগ বা বালির বস্তা দিয়ে নয়, টেকসই বাঁধই একমাত্র সমাধান হতে পারে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
-B