রাঙ্গামাটি : খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সহিংসতার প্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে কয়েকবার নিরুৎসাহিত করেছিল প্রশাসন। সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে বর্তমানে কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় পর্যটকদের আগমন আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে এখানে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে চলতি শীত মৌসুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার(৭ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, বছরের শেষ দিকে পরিবার, প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন।
অনেকে কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত বোটে ভ্রমণ করছেন। ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও সুবলং ঝরনা, ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, রাজবাড়ী, কাপ্তাই হ্রদ, আসাম বস্তি-কাপ্তাই সড়ক এবং ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা নীলাঞ্জনা রিসোর্ট, বেরান্ন্য লেক, ইজোর, রাইন্যাটুগুন ইকো রিসোর্টসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপ্রেমীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো।
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘প্রথমবার রাঙ্গামাটিতে আসা। এই প্রথম পাহাড় দেখলাম, হ্রদ-পাহাড়ের মিতালি যে এত মুগ্ধকর তা আমার জানা ছিল না। প্রকৃতি যে কতটা সুন্দর ও স্নিগ্ধ হতে পারে, তা এখানে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না।’
ফেনী থেকে আসা হাসান বলেন, ‘বন্ধুরা মিলে রাঙ্গামাটি বেড়াতে এসেছি। রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য দেখে খুব ভালো লাগছে। আগে সহিংসতার কারণে প্রশাসন পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার যেহেতু সবকিছু ঠিক রয়েছে, সে কারণে আমরাও ভালোভাবে ঘোরাঘুরি করতে পারছি।’
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক আসা কমে গেলেও এখন বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের হোটেল ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। যদি এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, তাহলে পর্যটকের আগমন বাড়বে।’
সাজেক ভ্যালি উপত্যকাও এখন পর্যটকে মুখর। মেঘ-পাহাড়ের মিতালি, সৌন্দর্য দেখতে সাজেকে ছুটছেন পর্যটকরা। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, সাজেক এখন পর্যটকে মুখর। আগের চেয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো থাকায় পর্যটকের আগমন বাড়ছে। সাজেকের বেশির ভাগ কটেজ, রিসোর্ট এখন প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। অন্যান্য দিনের চেয়ে বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সাজেকে পর্যটকের চাপ বেশি থাকে। সামনের দিনগুলোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যটকের আগমন আরো বেশি হবে।
-B