নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - প্রথম দিন থেকেই পর্যটকমুখর রাঙামাটি

জাফর আলম Date: 02 November, 2024
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার - প্রথম দিন থেকেই পর্যটকমুখর রাঙামাটি

রাঙামাটি: রাঙামাটি ভ্রমণে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করার পর শুক্রবার (০১ নভেম্বর) থেকে আবারও পর্যটকরা রাঙামাটিতে ভ্রমণ করতে শুরু করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটির প্রথম দিন হওয়ায় এদিন সকাল থেকে রাঙামাটিতে আশানুরূপ সংখ্যক পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, পর্যটক আসতে শুরু করলে তারা দীর্ঘদিন ধরে চলা লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন। পর্যটকদের আগমনে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণবন্ততা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন, যাতে তারা নির্বিঘ্নে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

পর্যটকরা রাঙামাটির জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো, যেমন রাজবন বিহার, সাজেক, এবং কাপ্তাই হ্রদ পরিদর্শন করছেন। 

শুক্রবার সকাল থেকেই রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। দলে দলে পর্যটকদের ঝুলন্ত সেতুতে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনে হাঁটা-চলার পাশাপাশি অনেকেই কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করেছেন। রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মোহিত পর্যটকরা জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এদিকে পর্যটক আসতে শুরু করায় খুশি ব্যবসায়ীরাও।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) ভোর থেকে পুরো শহর এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে রাঙামাটি পৌরসভা।

জেলার হোটেল-মোটেল মালিকরা পর্যটকদের জন্য সুবিধা দিতে নতুন করে কর্মচারী সংযোজন করেছে। ট্যুরিস্ট বোটগুলো সচল করেছে মালিক কর্তৃপক্ষ।  

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা রাঙামাটিতে আশানুরূপ পর্যটক এলে তাদের শত কোটি টাকার লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মামুন নামে এক যুবককে হত্যার পর খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা উপজেলা এবং রাঙামাটি শহরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে এই দুই জেলায় চারজন নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছিল।  

পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত একটানা ২৪ দিন পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছিল স্থানীয় প্রশাসন।  
-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor