সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দাবিতে সড়ক অবরোধ

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 20 November, 2024
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দাবিতে সড়ক অবরোধ

কক্সবাজার: সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দাবিতে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ডলফিন মোড়ে সড়ক অবরোধ করে দ্বীপের বাসিন্দা ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এ সময় কলাতলীর প্রধান সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে যান চলাচল  বন্ধ ছিল। সড়কে আটকা পড়া পর্যটকরা কোথাও যেতে না পেরে বাধ্য হয়ে সড়কেই রান্না করে খাবার খেয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রাণলয়ের সভায় সেন্ট মার্টিনের বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব অসমা শাহীনের সই করা একটি পরিপত্র জারি হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সেন্ট মার্টিনে নৌযান চলাচলের বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে অনুমতি দেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

নভেম্বরে দ্বীপে পর্যটক গেলেও দিনে ফিরে আসতে হবে। রাতযাপন করতে পারবে না। পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি হবে না। এছাড়া দ্বীপে রাতে আলো জ্বালানো যাবে না, শব্দদূষণ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।

পর্যটন ব্যববসায়ীরা বলছেন, সেন্ট মার্টিনের মানুষ পর্যটকদের টাকায় জীবিকা নির্বাহ করে। পর্যটক যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার সিদ্ধান্তে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বীপটির ১০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।

আন্দোলনের সমন্বয়ক ও দ্বীপের বাসিন্দা আবদুল মালেক জানান, আন্দোলনে অংশ নিতে সেন্ট মার্টিন থেকে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু এসেছে। একই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন স্তরের মানুষও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সেন্ট মার্টিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও রাতযাপন সীমিতকরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নেবে তারা।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঘটনাস্থলে আসেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জসীম উদ্দিন চৌধুরী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

আলোচনার শেষে প্রশাসনের আশ্বাসের অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জাহাজ চলাচলের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন।

সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা উন্নয়ন জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশি বলেন, ‘সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আপত্তি অগ্রাহ্য করে সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং রাতযাপন ও পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জীবন ও জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এ কারণে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনবাসীর দাবির বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে। তাদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে।’

--B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor