সিলেটঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শেষ হলেও সিলেটে এখনো রয়েছে পর্যটকের ঢল।
আজ সকালে সোমবার (৩০ মার্চ)এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্র ছিল পর্যটকে ভরপুর। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটকদের এ ঢল চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত সিলেট। সারি সারি পাহাড়, বিশাল ঝরনাধারা, বিছানাপাতা পাথরের ওপর দিয়ে প্রবহমান স্বচ্ছ জলের ধারা, সবুজ চা বাগান-প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণে সরগরম থাকে সিলেট। আর ঈদ কিংবা অন্য কোনো উৎসবের ছুটি মিললে তো কথাই নেই।
প্রতিবার ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে পুণ্যভূমিখ্যাত সিলেটে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের দিন থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ঈদের দিন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া বেশির ভাগ পর্যটক ছিলেন সিলেট বিভাগের। ঈদের আনন্দ বর্ণিল করতে দলে দলে তারা জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল ও পান্থুমাইসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যান।
ঈদের পরদিন থেকে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক আসা। কেউ দুদিনের জন্য, আবার কেউ পুরো সিলেট বিভাগের সৌন্দর্য উপভোগে এক সপ্তাহের ভ্রমণে আসেন। বিপুল পর্যটক সমাগম হওয়ায় হোটেল-মোটেলগুলো ছিল পরিপূর্ণ। সারা বছর হোটেলগুলো পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড় দিলেও ঈদের ছুটিতে নির্ধারিত ভাড়ায় হোটেল বুকিং দিতে হয়েছে আগন্তুকদের।
এ ছাড়া সুযোগ বুঝে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চালকরাও বাড়িয়ে দেন ভাড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজও সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাদাপাথর ও জাফলংয়ে ছিল পর্যটকদের ঢল। বিকেলে চা বাগানগুলোতেও অসংখ্য পর্যটককে ঘুরতে দেখা গেছে। বাকি পর্যটনস্পটগুলোতেও পর্যটক সমাগমের কমতি ছিল না।
নগরীর জিন্দাবাজারের হোটেল গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মলয় দত্ত মিষ্টু জানান, ঈদের পরদিন থেকে তার হোটেলের সবকটি রুম বুক্ড ছিল। এখনো হোটেলের প্রায় সবকটি রুমে পর্যটক আছেন। এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় অন্যবারের তুলনায় সিলেটে পর্যটক সমাগম বেশি।
সিলেট হোটেল-মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এটিএম শোয়েব আহমদ জানান, লম্বা ছুটি থাকায় সিলেটে গেল কয়েক বছর থেকে এবার বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে।
এছাড়া দেশের আবহাওয়া অনুকুল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় মানুষ পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পেরেছেন।
-B