এয়ারলাইনস শিল্পে ৯/১১-এর মতো প্রভাব ফেলতে পারে শুল্ক - আইএটিএ প্রধান

-মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট Date: 21 April, 2025
এয়ারলাইনস শিল্পে ৯/১১-এর মতো প্রভাব ফেলতে পারে শুল্ক - আইএটিএ প্রধান

ঢাকাঃ ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইনস খাতে যে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার হামলার পর পর্যটন খাতে সৃষ্ট ধাক্কার কাছাকাছি হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বিশ্বব্যাপী এয়ারলাইনস খাতে যে প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে, তা ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার হামলার পর পর্যটন খাতে সৃষ্ট ধাক্কার কাছাকাছি হতে পারে। এ মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) প্রধান উইলি ওয়ালশ। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো দ্রুত এ সংকটের সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

দুবাইয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইএটিএর বার্ষিক ওয়ার্ল্ড কার্গো সিম্পোজিয়ামের ফাঁকে সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়ালশ বলেন, ‘যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাব সম্ভবত ৯/১১-এর পর যেমনটা দেখেছি তেমন। তখন ট্রান্সআটলান্টিক রুটে বড় রকমের ধাক্কা লেগেছিল, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাজার কয়েক মাসের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের মতো গভীর প্রভাব ফেলবে এবং মহামারীর সময় আমরা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছি, তার ধারেকাছেও নয়। এখনকার এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো অনেক বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ।’

আইএটিএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ট্রান্সআটলান্টিক রুটে যাত্রী চাহিদা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা রুট বাদে বেশির ভাগ বাজারেই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যপ্রাচ্য রুটে চাহিদা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। ‘এখনই কোনো এয়ারলাইনসকে আতঙ্কিত হতে দেখা যাচ্ছে না, কারণ যাত্রী ও কার্গো উভয় ক্ষেত্রেই চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে’—বলেন ওয়ালশ।

বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কিছু এয়ারলাইনসের ব্যবসায় ‘মন্দা’র লক্ষণ দেখতে পেয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। উইলি ওয়ালশ বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে আমরা সক্ষমতা কমানো নয় বরং ভাড়া কমিয়ে চাহিদা বাড়ানোর পথে যাব। এক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের খুব বড় ধরনের পরিবর্তন হবে না বরং কিছুটা ক্ষুদ্র সমন্বয় হবে মাত্র।’

আইএটিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাত ৩ হাজার ১৫০ কোটি ডলার নিট মুনাফা অর্জন করবে এবং চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারে। জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলার থাকলে এ মুনাফা প্রত্যাশিত।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন পূর্বাভাস সম্প্রতি এয়ারলাইনস খাতে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষত উড়োজাহাজ, ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উইলি ওয়ালশ বলেন, ‘এ অনিশ্চয়তার কারণে নতুন উড়োজাহাজ না কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিছু এয়ারলাইনস প্রধান।’

বর্তমানে এয়ারলাইনসগুলোর আসন পূরণের হার ৮৫ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের ৮২ দশমিক ৬ শতাংশের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি আশাবাদী, ২০২৫ সালে এ হার আরো বাড়বে।

আইএটিএর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মায়া মারসিনিয়াক বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি পরিবর্তন এসেছে। এখন আঞ্চলিক বাণিজ্য বেড়েছে এবং আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য কমেছে। এটা প্রমাণ করে আমরা এখন বিশ্বায়নের চূড়ায় পৌঁছে গেছি।’

এদিকে উড়োজাহাজের কার্গো খাতে কিছু বিষয় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যেমন রফতানি প্রবাহের পরিবর্তন, কাস্টমস বিলম্ব, মূল্যবৃদ্ধিজনিত বাণিজ্য হ্রাস এবং উড়োজাহাজের দাম বেড়ে যাওয়া। পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে কম বিনিয়োগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, গ্রাহক আস্থা হ্রাস ও ই-কমার্স খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস। 

তবে আইএটিএ পূর্বাভাস দিচ্ছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ৭ কোটি ২৫ লাখ টন পণ্য উড়োজাহাজে পরিবহন করা হবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। মোট এয়ার কার্গোর আর্থিক মূল্য ৮ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব তুলে ধরে।

‘বিশ্বায়ন কি মৃত?’ এ প্রশ্নের জবাবে উইলি ওয়ালশ বলেন, ‘ধারণাটি এখন কিছুটা রুগ্‌ন অবস্থায় আছে। তবে আমি মনে করি না এটা একেবারে শেষ হয়ে গেছে। আমরা একটা ঝড় পার করছি। আশা করি, নতুন একটি স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছব।’

শেষে তিনি যোগ করেন, ‘‌যেকোনো পরিস্থিতিই আসুক না কেন, এয়ারলাইনস খাত মানিয়ে নিতে প্রস্তুত এবং যেখানে চাহিদা থাকবে, সেখানেই আমরা সরবরাহ নিয়ে যাব।’

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor