শুল্কযুদ্ধ- চীন থেকে ফেরত এলো বোয়িং জেট

-মনিটর অনলাইন Date: 22 April, 2025
শুল্কযুদ্ধ- চীন থেকে ফেরত এলো বোয়িং জেট

ঢাকাঃ চীনের জন্য নির্মিত একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান শেষ পর্যন্ত নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রেই ফিরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের বলি হয়েছে উড়োজাহাজটি।

বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটের দিকে জেটটি নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের সিয়াটল উৎপাদন কেন্দ্রে অবতরন করেছে।

জানা যায়, এই ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজটি তৈরি করা হয়েছিলে চীনের শিয়ামেন এয়ারলাইন্সের জন্য। সিয়াটলের বোয়িং ফিল্ডে অবতরণের সময়ও এর গায়ে শিয়ামেনের নাম ও লোগো আঁকা ছিল।

ফেরার জন্য পাঁচ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে জেটিটিকে, মাঝে জ্বালানি নিতে বিরতি দিয়েছে গুয়াম ও হাওয়াইয়ে।

চীনা এয়ারলাইন্সকে সরবরাহের আগে ‘ফিনিশিং টাচ দিতে’ বোয়িংয়ের ঝোশান কেন্দ্রে যে ক’টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট অপেক্ষায় ছিল, এটি তার একটি।

ট্রাম্প চলতি মাসে চীন থেকে আমদানি পণ্যে ন্যূনতম শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করেছেন। এর পাল্টায় চীনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে।

উড়োজাহাজ খাত সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইবিএ-র হিসাব অনুযায়ী, এখন একটি নতুন ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের বাজার মূল্য সাড়ে ৫ কোটি ডলারের মতো; তার সঙ্গে এই পরিমাণ শুল্ক বোয়িং জেট নিতে চাওয়া চীনা এয়ারলাইন্স কোম্পানিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে পারে।

ক্রেতা না বিক্রেতা, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জেটটির ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছে তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করলেও বোয়িং ও শিয়ামেনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কয়েক দশক ধরে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া উড়োজাহাজ খাত এখন এই সুবিধার বাইরে চলে যাওয়ায় নতুন বিমান সরবরাহ যে বিরাট ঝক্কির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে চীন থেকে বোয়িংয়ের এই ৭৩৭ ম্যাক্সের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়াই তার প্রমাণ। ৭৩৭ ম্যাক্স বোয়িংয়ের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল।

শুল্ক নিয়ে বেশ বিভ্রান্তিও কাজ করছে। ট্রাম্প কোনো কোনো দেশের পণ্যে একবার শুল্ক দিচ্ছেন, কখনো স্থগিত করছেন, আবার প্রত্যাহার করছেন বা করার ঘোষণা দিচ্ছেন, তারপর ফের শুল্ক আরোপ করছেন।

এই ধরনের বিভ্রান্তিও উড়োজাহাজ সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অনেক এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, শুল্ক দেওয়ার বদলে তারা এখন উড়োজাহাজ সরবরাহই পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor