এক মাসেই ১০ বার ভূমিকম্প, আতঙ্কে দেশ

-মনিটর রিপোর্ট Date: 28 February, 2026
এক মাসেই ১০ বার ভূমিকম্প, আতঙ্কে দেশ

ঢাকাঃ  রাজধানী শহর ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের ভূমিকম্পসহ  চলতি ফেব্রুয়ারিতে ১০ বার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। যদিও ভূমিকম্পগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়নি।

তবে বারবার কেঁপে ওঠা ভয়াবহ দুর্যোগের সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। কয়েক সেকেন্ড ধরে এ কম্পন স্থায়ী হয়। তবে এটি ছিল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। 

ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ১৮৮ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ ছিল বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা।

ভূমিকম্পে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের কয়েকটি ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও মাটির ঘর ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। 

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় আশাশুনি উপজেলা সদরে। যার স্থায়িত্ব ছিল ৫-৬ সেকেন্ড।’

জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি মাস শুরুই হয়েছে ভূমিকম্প দিয়ে। মাসের ১ তারিখে সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পনের পর ফের ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১, মিয়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরো দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বারবার কেন ভূমিকম্প হচ্ছে—এ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলছেন, ভারত ও নেপালের মধ্যকার সীমানা বরাবর ইউরেশীয় প্লেট রয়েছে। এ প্লেটের সঙ্গে ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষ হয়। ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের ওপরে উঠে হিমালয় পর্বত গঠন করার পাশাপাশি বার্মা মাইক্রোপ্লেটের নিচে দেবে যাচ্ছে। আর ভূতাত্ত্বিক এ ঘটনার সংযোগস্থল হলো বেঙ্গল বেসিন বা বঙ্গীয় অববাহিকা অঞ্চল।

এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। এ ঘটনার ১৩ ঘণ্টা আগে বুধবার রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।

দীর্ঘদিন ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী। 

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ১০০-১৫০ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত ১৫০ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। তাই কাছাকাছি সময়ে আরেকটি বড় ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি বড় ভূমিকম্প আমাদের দোরগোড়ায়। প্রতি ১০০-১৫০ বছর পর ৭-৮ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে বাংলাদেশে। এটাকে আমরা ভূমিকম্পের টাইম ফ্রেম বা সাইকেল বলি। বাংলাদেশ এখন সে সাইকেলে চলে এসেছে। ছোট ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের প্রস্তুতি। 

কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার ভূমিকম্পের বিষয়টি গুরুত্বই দিচ্ছে না। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিসও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের ভবনও ভেঙে পড়বে। রাস্তায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে পড়ে থাকবে। গাড়ি চলার সুযোগ থাকবে না। তাই সময় থাকতে রাষ্ট্র এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor