ঢাকাঃ থাইল্যান্ডের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পর্যটন খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। ৪ বছর পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে বিদেশী পর্যটক আসার হার কমেছে। বিশেষ করে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ কমায় এ সংকট আরো বেড়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালের পর এই প্রথম পর্যটকের সংখ্যায় এমন পতন ঘটল। এ সংখ্যা ২০১৯ সালের রেকর্ড পর্যায়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
থাইল্যান্ডের পর্যটন খাতে সবচেয়ে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চীনা পর্যটক কমে যাওয়ার কারণে। দেশটির মোট পর্যটকের ১০ শতাংশই চীন থেকে আসে। তবে আগের বছরের তুলনায় গত বছর এ সংখ্যা কমেছে ৩০ শতাংশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড ভ্রমণে আসা এক চীনা অভিনেতাকে অপহরণ করে মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার পর চীনা পর্যটকদের মধ্যে দেশটিতে ভ্রমণ নিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পর্যটন খাতের এ মন্দার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। দেশটির ছয়টি প্রধান বিমানবন্দর পরিচালনা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ড। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ ১ হাজার ৮১০ কোটি বাথ বা প্রায় ৫৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
মূলত পর্যটক কমে যাওয়ায় বিমানবন্দরের শুল্কমুক্ত দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
থাইল্যান্ডের মোট জিডিপির ২০ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউট থাইল্যান্ডের প্র্যাকটিস হেড ইউজি কাটো বলেন, ‘পর্যটক কমার এ হার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় থাইল্যান্ড পর্যটনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এ পরিস্থিতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
থাই সরকার চলতি বছর পর্যটকের সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ কোটি ৬৭ লাখে নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে অনেক হোটেল মালিক মনে করছেন, পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের মতোই ৩ কোটি ৩০ লাখের আশপাশে থাকতে পারে।
-B