চীন তার দেশে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। এমন প্রেক্ষাপটেই দেশটির সীমান্ত কর্তৃপক্ষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৩ সালে চীনে ৩৫ মিলিয়নের বেশি বিদেশী প্রবেশ বা প্রস্থান করেছে।
সংখ্যাটি ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় সাতগুণ বেশি। ওই সময়ও কঠোর জিরো-কোভিড নীতি কার্যকর থাকায় পর্যটকেরা আসছিল না।
তবে ২০২৩ সালে বিপুল সংখ্যক বিদেশীর আগমন-নির্গমন দেখা গেলেও তা কিন্তু ২০১৯ সালের মহামারীর আগের চেয়ে অনেক কম। ওই বছর সীমান্ত অতিক্রম করেছিল ৯৭ মিলিয়ন বিদেশী। অর্থাৎ ওই সময়ের এক-তৃতীয়াংশ বিদেশীও আসেনি চীনে।
বিশেষজ্ঞ ও ভিসা আবেদনকারীরা বলছেন, চীন ভিসার নীতিমালা শিথিল করা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তারা আগের মতো আসছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীন দূতাবাস ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঘোষণা করে যে জানুয়ারি থেকে তারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভিসার আবেদনে শিথিলতা দেখাবে। তারা জানায়, রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট টিকিট, হোটেল রিজার্ভেশন, সফরসূচি, বা আমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি কিছুই ভিসার সময় দেখাতে হবে না।
অনেক আমেরিকান একে স্বাগত জানিয়ে চীন সফর করতে আগ্রহী হয়েছিল। এমনই একজন হলেন মাইকেল নামে পরিচয় দেয়া একজন। তিনি চীনা কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে আসল নাম এড়িয়ে এই পরিচয় ব্যবহার করেছেন।
তিনি জানান, তিনি চীনের প্রাচীন স্থানগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পর্যটক হওয়া সত্ত্বেও চীনা কর্তৃপক্ষ তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে, এমন শঙ্কায় তিনি চীন সফর যেতে আগ্রহী হননি।
গত জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর চীন প্রশ্নে লেভেল ৩ ট্রাভেল নতুন করে আরোপ করে জানায় যে পর্যটকদের বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করা উচিত। তারা স্থানীয় আইন নির্বিচারে প্রয়োগ হতে পারে, এমনকি বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সম্ভাব্য পর্যটকদের হুঁশিয়ার করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের উদ্বেগ চীনের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের স্বাগত জানানোর আয়োজনে বাধার সৃষ্টি করে।
তবে পর্যটকদের আকর্ষণে চেষ্টার কমতি রাখছে না চীন। তারা আমেরিকানদের ওই ছাড় দেয়ার আগে ছয়টি দেশ- ফ্রান্স, জার্মানি, হল্যান্ড, ইতালি, মালয়েশিয়া ও স্পেনের নাগরিকদের জন্য ভিসা-ফ্রি নীতির কথা ঘোষণা করে।
চীনের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, আগের মাসের চেয়ে ডিসেম্বরে পর্যটকের আগমন বেড়েছে ২৮.৫ ভাগ।
এদিকে চীনের বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ চলতি মাসে জানিয়েছে, তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যকার সরাসরি উড়োজাহাজ ফ্লাইট সপ্তাহে ৬৩ থেকে বাড়াবে।
-B