থার্ড টার্মিনাল - দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া

মনিটর রিপোর্ট Date: 08 October, 2023
থার্ড টার্মিনাল - দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া

ঢাকা: বিশ্বের উচ্চতম ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। অনেক পর্যটক শুধুমাত্র দুবাই যান দৃষ্টিনন্দন ভবনটি দেখতে। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনালটিও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি। সেই নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের হাতেই তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল (টার্মিনাল- ৩)।

টার্মিনাল ভবনে আছে স্ট্রেইট এস্কেলেটর, ব্যাগেজ বেল্ট, মুভি লাউঞ্জ, সেলফ চেক-ইনসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। 

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে  ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, লাগেজ হ্যান্ডলিং, লিফট ও এস্কেলেটরসহ অধিকাংশ যন্ত্রাংশ ইন্সটল করা হয়ে গেছে। 

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের স্থাপনা থেকে চোখ ফেরানো দায় বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার অ্যাপ্রোন (উড়োজাহাজ পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে।

মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এ বিল্ডিংয়ের ভেতরে আছে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। টার্মিনালের প্রতিটি ওয়াশরুমের সামনে থাকবে একটি করে দৃষ্টিনন্দন বেবি কেয়ার লাউঞ্জ। এ লাউঞ্জের ভেতর মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং বুথ, ডায়াপার পরিবর্তনের জায়গা এবং একটি বড় পরিসরে ফ্যামিলি বাথরুম করা হয়েছে। এ ছাড়া, বাচ্চাদের স্লিপার-দোলনাসহ একটি চিলড্রেন প্লে এরিয়াও রাখা হয়েছে এখানে। ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে হেলথ ইন্সপেকশন রুম, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্স্ট-এইড রুম, করোনাসহ নানা রোগের টেস্টিং সেন্টার ও আইসোলেশন এরিয়া।

আরও পড়ুন: পর্যটনে দ্বিতীয় সেরা সৌদি আরব

নতুন এ টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাগের জন্য সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি ও ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক তিনটি আলাদা স্টোরেজ এরিয়া করা হয়েছে। এগুলো হলো- রেগুলার ব্যাগেজ স্টোরেজ, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড এবং ওড সাইজ (অতিরিক্ত ওজনের) ব্যাগেজ স্টোরেজ। যাত্রীদের স্বাভাবিক ওজনের ব্যাগেজের ১৬টি রেগুলার ব্যাগেজ বেল্ট থাকবে টার্মিনালটিতে। অতিরিক্ত ওজনের (ওড সাইজ) ব্যাগেজের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আরও চারটি পৃথক বেল্ট।

অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল ভবনে থাকছে ১০টি সেলফ চেক-ইন কিওস্ক (মেশিন)। এগুলোতে পাসপোর্ট ও টিকিটের তথ্য প্রবেশ করালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে বোর্ডিং পাস ও সিট নম্বর। এরপর নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী তার লাগেজ রাখবেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগেজগুলো উড়োজাহাজের নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে। তবে, নির্ধারিত ৩০ কেজির বেশি ওজনের ব্যাগেজ নিয়ে এখানে চেক-ইন করা যাবে না। যাত্রীদের জন্য আরও ১০০টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে এ টার্মিনালে।

অবসরে যাত্রীদের সময় কাটানোর জন্য নতুন এ টার্মিনালে শিগগিরই করা হচ্ছে মুভি লাউঞ্জ, এয়ারলাইন্স লাউঞ্জ। এ দুই লাউঞ্জ বাদে অন্যান্য স্থাপনাগুলো ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে। তবে, পরীক্ষামূলকভাবে এখনও এগুলো চালানো হয়নি। ডিসেম্বরের মধ্যেই এগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে ১২ এয়ারলাইন্স

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি হবে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor