অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল

-মনিটর রিপোর্ট Date: 06 January, 2026
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল

ঢাকাঃ প্রায় ১বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে আছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতায় এখনও এটি চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা করেও টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে জাপানের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হচ্ছে না। টার্মিনাল উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকার গ্রহণ করবে।’

বেবিচকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনাল পরিচালনার জন্য যে কোম্পানিকে নিযুক্ত করা হবে, তারা চুক্তির পর পরই টার্মিনালে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে টার্মিনালের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে ৬ থেকে ৮ মাসের মতো সময় লাগতে পারে। সবকিছু হিসাব করে তারা বলছেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হতে আরো ১বছর সময় লেগে যেতে পারে।

‌‘‌হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রথম পর্যায়’ প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন থার্ড টার্মিনাল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি ৬টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বেবিচক কাজ করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে জাপানের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। দরকষাকষি করেছি, আলোচনা করেছি। আমরা প্রাণান্ত চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘টার্মিনাল চালুর জন্য যে পদ্ধতিগত ও কারিগরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেগুলো সচল রাখার জন্য আমরা বর্তমানে কাজ করছি। পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

সংশোধিত বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি উপলক্ষে সচিবালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

উপদেষ্টা বলেন, ‘অধ্যাদেশ দুটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রতারণা ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে। এক্ষেত্রে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে অসাধু চক্র আর সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমানের টিকিট বিক্রিতে কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল, নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে তা ভেঙে যাবে। ফলে টিকিটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।’

বিমানের ফ্লাইট ডাইভারশন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, তীব্র কুয়াশার কারণে যাতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পার্শ্ববর্তী দেশে ডাইভার্ট করতে না হয়, সে লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান জানান, অধ্যাদেশ দুটি কার্যকর হলে বিমান পরিবহন ও ট্রাভেল ব্যবসায় শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor