ধ্বংসের পথে ছেঁড়া দ্বীপের প্রবাল

জাফর আলম, কক্সবাজার Date: 05 February, 2024
ধ্বংসের পথে ছেঁড়া দ্বীপের প্রবাল

২০২০ সালের ১২ অক্টোবর সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ অংশে পর্যটকদের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সেন্ট মার্টিনে ছয় ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কিন্তু এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনও তদারকি নেই স্থানীয় প্রশাসনের।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেন্টমার্টিনের জেটির মাঝামাঝি স্থানে একটি সাইনবোর্ড ঝোলানো রয়েছে। সেখানে ‘স্পিডবোট ও লাইফ বোট’ মালিক সমবায় সমিতির নাম লেখা। পাশাপাশি ছেঁড়া দ্বীপ, প্রবাল দ্বীপে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে সাইনবোর্ডে ফোন নম্বর দেওয়া আছে। দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য টিকিট কাউন্টার।

এ ছাড়া সমুদ্রসৈকত দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে (টমটম) চড়ে শত শত পর্যটক ছেঁড়া দ্বীপে যাতায়াত করছেন। তাতে ধ্বংস হচ্ছে বালুচরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, প্রবাল-শৈবালসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ১ দশমিক ৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে জীবন্ত প্রবাল ছিল, এখন সেখানে আছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩৯ বর্গকিলোমিটার। অর্থাৎ এরই মধ্যে দ্বীপের ৯৭ শতাংশ প্রবাল ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে এই দ্বীপে ৬৬ প্রজাতির প্রবাল আর প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলেও, এখন ১০ প্রজাতিও টিকে নেই।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পর্যটকদের অবাধ চলাফেরা ও স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে হুমকির মুখে রয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ। সেই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শুধু ছেঁড়া দ্বীপ নয়, সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা উচিত।

কক্সবাজারের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়েরনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গত বছরের ২৩ মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হতে দেখিনি। বরং দিন দিন প্রবাল দ্বীপটি মৃত্যুর দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় ছেঁড়া দ্বীপের সামুদ্রিক প্রবাল হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারের উচিত প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করা। অন্যথায় আগামী ২০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে দ্বীপটি।

প্রফেশনাল আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার শরীফ সারওয়ার বলেন, জাহাজ চলাচল বাড়ায় দ্বীপের জেটির আশপাশের কোরালে বালুর আস্তরণ পড়েছে। এ ছাড়া শত শত পর্যটক ছেঁড়া দ্বীপে ভ্রমণের কারণে কোরালগুলো আরও হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব নৌযান ছেঁড়া দ্বীপে নোঙর করা হয়, সেগুলো নিচে থাকা কোরালগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনে নিয়ে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর ছেঁড়া দ্বীপে নৌযান-যানবাহন চলাচলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor