পায়রা ও পদ্মা সেতু ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। পদ্মা ও পায়রা নদী পাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য আকৃষ্ট করছে সব বয়সের মানুষকেই। মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা সেতুর পুরো কাঠামো দাঁড়ানোর পর এবং চলতি অক্টোবরেই উদ্বোধনের অপেক্ষারত বহুল প্রতীক্ষিত পায়রা সেতু দেশের পর্যটন শিল্পে সোনালী দিগন্তের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে চলেছে।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই আসছে অসংখ্য মানুষ। ভ্রমণপিপাসু এসব মানুষের চাহিদা মেটাতে পদ্মার দুই পাড়ের মানুষের যেন আন্তরিকতার কমতি নেই। আতিথেয়তার সবটুকু দরদ দিয়েই পর্যটকদের সেবা দিচ্ছেন তারা। আদি পেশা বদল করে মাওয়া-জাজিরার অনেকেই এখন পর্যটনকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন। এ দিকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পর্যটনের উদ্যোক্তারাও নতুন সেবা দেয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আশা করা যায়, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২২ সালে বহু কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু চালু হলে শুধু যোগাযোগই নয়, পর্যটনের পাশাপাশি শিল্প-বাণিজ্যেও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এই এলাকার মানুষ। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের স্পটে পরিণত হবে পদ্মা সেতু।
অপরদিকে নান্দনিক নকশায় নির্মিত দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পায়রা সেতু এখন উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে । পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শেষে বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলেছে সৌন্দর্যবর্ধনসহ আলোকসজ্জার কাজ।
এ সেতুটি উদ্বোধনের পর বরিশাল থেকে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ চালু এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি একসময়ের পিছিয়ে পড়া পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এ সবকিছু মিলিয়ে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে এক সময়ের অবহেলিত জনপদ দক্ষিণাঞ্চলে। পায়রা বন্দর ঘিরে ওই এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়েছে। পাল্টে যাচ্ছে এ অঞ্চলের চেহারা। এ সেতু শুধু পাঁচ জেলার মধ্যেই নয়, আলাদা দুটি বিভাগ ও দুই বন্দরের (পায়রা ও মোংলা) সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করবে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা ও খুলনা থেকে সরাসরি সড়ক পথেই নির্বিঘ্নে কম সময়ে পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন সুন্দরবন পর্যন্ত যাওয়া যাবে। এতে করে পর্যটনের বিকাশ যেমন ঘটবে, তেমনই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে গোটা অঞ্চলে।