পর্যটক সংকটে পাহাড়

জাফর আলম Date: 17 August, 2025
পর্যটক সংকটে পাহাড়

রাঙামাটি : রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র বেশ কিছুদিন থেকেই পর্যটকশূন্য। পর্যটন মৌসুমের আগেই এলাকা যেন দর্শনার্থী হারিয়ে ফেলেছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। 

চলমান টানা বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় পর্যটন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি, উজানি ঢলে ডুবে গেছে রাঙামাটির একমাত্র ঝুলন্ত সেতু, যা এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, ঝুলন্ত সেতুর প্রবেশপথে নিষেধাজ্ঞার নোটিস টাঙ্গানো রয়েছে এবং টিকেট কাউন্টারও বন্ধ রয়েছে। 

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পর্যটকদের আগমন নেই । পার্কিং জোন খোলা থাকলেও কর্মীরা কার্যত কর্মহীন সময় পার করছেন। ঝুলন্ত সেতুর কাঠের পাটাতন কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘাটে অপেক্ষমাণ কয়েকটি ট্যুরিস্ট বোট থাকলেও পর্যটক না থাকায় বোট চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। 

এব্যাপারে রাঙামাটি পর্যটক ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির ব্যবস্থাপক মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটি পর্যটন ঘাটে প্রায় ১০০টি ট্যুরিস্ট বোট আছে। চালকও আছে ১০০ জন। কিন্তু ভোরা মৌসুমে আশানুরূপ পর্যটক নেই রাঙামাটি। তাই একেবারে কর্মহীন অবস্থায়ছে চালকরা। পর্যটক আসলে এসব বোট চালক কর্মময় হয়। কারণ পর্যটকরা কাপ্তাই হ্রদে ঘুরতে ভালবাসে। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক নাথাকার কারণে পর্যঠক হ্রস পাচ্ছে রাঙামাটিতে। তাই এখন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি বোট চালকদের। 

অন্যদিকে রাজস্ব আয় কমছে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সে। পর্যটক নেই তেমন। তাই বুকিংও নেই। হোটেল মোটেলের চেয়ে মানুষ ঝুলন্ত সেতুতে ঘুরতে বেশি প্রছন্দ করেন। 

রাঙামাটি পর্যটক কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন পর্যটনে পর্যটক থাকতো বেশি। মোটেলের চেয়ে ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকরা বেশি ভ্রমন করেন। এখন ঝুলন্ত সেতু ডুবন্ত অবস্থায় আছে। তাই পর্যটকদের জন্য ঝুলন্ত সেতুতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই রাজস্ব আয় কিছুটা কমে গেছে। পর্যটনের সবচেয়ে বেশি আয়ের মাধ্যম ঝুলন্ত সেতু।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor