চায়ের রাজধানীতে পর্যটকখরা

-মনিটর রিপোর্ট Date: 04 January, 2026
চায়ের রাজধানীতে পর্যটকখরা

সিলেট : পর্যটননগরী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার এবং চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল—এই দুই শহরে বর্তমানে ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ পর্যটকের দেখা মিলছে না। 

অনুন্নত সড়কব্যবস্থা ও বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জেলার পর্যটনখাতে। ফলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

একসময় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেলগুলো ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও তাতে পর্যটক আকর্ষণে তেমন সফল হচ্ছেন না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে মাসে মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মনোমুগ্ধকর সবুজ চা বাগান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, দিগন্তজোড়া হাইল হাওর এবং শীতের পরিযায়ী পাখি দেখার জন্য বিখ্যাত বাইক্কা বিল, মৎস্য অভয়ারণ্য—সব মিলিয়ে রয়েছে অপার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব দর্শনীয় স্থান ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়। সবুজে ঘেরা নান্দনিক এই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনা থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর পর্যটক কমেছে ৮০ শতাংশ। যাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। প্রতিমাসে এই শিল্পে শুধু ব্যবসা ধরে রাখতেই গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা।

একজন হোটেল-রিসোর্ট ম্যানেজার জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বুকিংয়ের বাজে অবস্থা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিনিয়োগ করার পর এমন পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের যে বাজে অবস্থা ও রেলের টিকিট স্বল্পতার কারণেও কমে গেছে পর্যটকের সংখ্যা।

ক্ষতির মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও চান্দের গাড়ির চালকরাও। আগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

ব্যবসায়ী ও চান্দের গাড়ির মালিক ও চালকরা জানান, আগের মতো পর্যটকরা আসেন না, আসলেও খুব অল্পসংখ্যক আসেন। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা করতে পারছেন না তারা। এতে বেশিরভাগ গাড়িচালকই বেকার বসে দিন পার করছেন বলেও জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, পর্যটক টানতে এই খাতকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঐ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে, যা অ্যাপ্রুভালের অপেক্ষায় আছে। এটা অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলে আশা করা যায় বাংলাদেশের ট্যুরিজমের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

পর্যটন খাতের সব খরা কাটিয়ে আবারও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্র; চাঙা হবে পর্যটন খাত এমনটাই প্রত্যাশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor