কক্সবাজারঃ পাহাড়, নদী ও ঝরনার কারণে খাগড়াছড়ি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। সারা বছরই জেলাটি ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ থাকে। আর বড় কোনো উৎসবের ছুটি হলে তো কথাই নেই! এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ঈদের ৫ম দিনে আজ রবিবার (৬ এপ্রিল)পাহাড়ের প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকের পদভারে মুখরিত রয়েছে।
বিশেষ করে খাগড়াছড়ি শহরের নিকটবর্তী জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক ও অদূরের আলুটিলায় বেশি আকৃষ্ট পর্যটকগণ। সবুজ চাদরে ঢাকা সেখানকার বিভিন্ন স্পটগুলোতে ছবি তোলায় ব্যস্ত পর্যটকরা।
আলুটিলার ভিন্নধর্মী সেতু, অ্যাম্পিথিয়েটার আর রহস্যময় গুহায় আনাগোনা বেশি পর্যটকদের। অন্যদিকে জেলা পরিষদ পার্কের ঝুলন্ত সেতুতে উঠতেই বেশি পছন্দ শিশু-কিশোরদের। এছাড়া লেকে সমৃদ্ধ পানছড়ির ‘মায়াবিনী লেক’ ও মহালছড়ির ‘মাতাই পুকুরি’তে ছুটছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
রাজশাহী থেকে ঘুরতে আসা ইমরান হাসান ও দিলরুবা আক্তার বলেন, হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা সুড়ঙ্গ, রিচাং ঝরনা ঘুরেছি। পাহাড়ের নির্মল পরিবেশ পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে।
হর্টিকালচার পার্কের ব্যবস্থাপক অংগ্য মারমা বলেন, লম্বা ছুিট থাকায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আরও কয়েক দিন পর্যটকের ভিড় থাকবে।

পর্যটকদের আনন্দকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ করতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরফিন জুয়েল। তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে অতিরিক্ত পর্যটক হলেও নিরাপত্তার কোনো কমতি নেই। পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা টহলে আছে।
‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে দলে দলে পর্যটকরা ভ্রমণ করছেন বিনোদনের জনপ্রিয় এই স্থানে। ঝুলন্ত সেতুর পাশপাশি পলওয়েল পার্কসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও রয়েছে পর্যটকের সরব পদচারণা। হ্রদের শান্ত জল ও সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত পর্যটকরা।
পর্যটকদের আগমনে খাগড়াছড়ির হোটেল আর কটেজের অধিকাংশ রুম বুকিং রয়েছে এখনও।
এদিকে যাতায়াত সুবিধার কারণে খাগড়াছড়ি হয়ে বহু পর্যটক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্রমণে গেছেন। এতে বাড়তি লাভের আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পাহাড় কন্যা খ্যাত অপরূপা এই বান্দরবানে। রুমা-থানচি ছাড়া জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলি এখনও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত।
সরজমিনে মেঘলা, নীলাচল, দেবতাকুমসহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে পর্যটকের বেশ উপস্থিতি আজ (৬ এপ্রিল) সকালেও দেখা যায়।
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সুকুমার তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কেন্দ্রটিতে গতকাল এবং আজ দুপুর পর্যন্ত দুই দিনে প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।
-B