সাগরকন্যায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক

মনিটর রিপোর্ট Date: 04 June, 2024
সাগরকন্যায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক

কুয়াকাটা, পটুয়াখালী : ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব শুরু হওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা ছিল না সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। রিমাল চলে গেলেও রেখে গেছে ক্ষত। তবুও সপ্তাহ ঘুরতেই সৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। আর সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিনের তুলনায় একটু একটু করে বাড়ছে পর্যটকের আগমন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকরা সৈকতে পায়চারি করছেন। কেউবা আবার সৈকতে বসে আনন্দ উপভোগ করছেন। পর্যটকদের আগমন ঘিরে বাহারি সব দোকানে বেড়েছে বিক্রিও।

সমুদ্র সৈকতে থাকা হালকা খাবারের দোকানগুলোতেও দর্শনার্থী রয়েছে। এছাড়া ভোর থেকেই সূর্যোদয় দেখতে ঝাউবনে ছুটে যান অসংখ্য দর্শনার্থী। 

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সৈকত লাগোয়া দোকানগুলো ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল চলে গেলেও এর প্রভাবে যে ক্ষতি হয়েছে, তা বয়ে বেড়াতে হবে বহুদিন। রিমাল শেষ করে দিয়েছে কুয়াকাটা সৈকতের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত গাছ। 

কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। এ উদ্যানে ছিল শত শত ঝাউগাছ, কেওড়া ও শাল গাছ। পর্যটকরা এসে ছায়াতলে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। সেই জাতীয় উদ্যান সমুদ্রের মাঝে বিলীন হয়ে গেছে। গাছগুলো এলোমোলোভাবে পড়ে আছে। জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে গঙ্গামতি পর্যন্ত সারি সারি গাছ সৈকতে পড়ে আছে। এছাড়া ঝড়ের পর কুয়াকাটা সৈকতে মৃত চিত্রা হরিণও ভেসে এসেছে। তবে সেই সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা পুরো সৈকতের।

দর্শনার্থীরা বলেন, সমুদ্র বার বার টানে। সুযোগ পেলেই তাই ছুটে আসেন সাগরকন্যা কুয়াকাটাতে। দুই/একদিন থেকে প্রশান্ত মনে ফিরে যাওয়া হয় বাড়িতে, কর্মস্থলে। সমুদ্রে ভোরের বাতাস আর সাগরের গর্জন অন্যরকম এক প্রশান্তি এনে দেয় মনে। কর্মজীবনের একঘেয়েমি দূর করতে সমুদ্র ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি কে এম জহির জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পর্যটক শূন্যের কোটায় ছিল।  এখন আবার পর্যটক আসা  শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে এটা বৃদ্ধি পাবে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. মোতালেব শরীফ জানান, যে কোনো সমস্যা শুরু হলেই ধাক্কা আসে পর্যটনের ওপর। ঘূর্ণিঝড় রিমালের ধাক্কা কেটে উঠতে আবারও অনেকদিন লেগে যাবে। তবে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। গত দুইদিন ধরে বাড়তে শুরু করেছে সৈকতে পর্যটকদের সংখ্যা। এটি দিন যত যাবে ততই বাড়বে বলে আশা করি।

সার্বিক বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৈকতের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নির্বিঘ্নেই পর্যটকরা তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor