পটুয়াখালী: সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটন নগরী। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে আসছেন নানা ধরনের ভ্রমণপিপাসু মানুষ। সূর্য উদয়-অস্তের এই বেলাভূমি ও সুবিশাল সাগরে গর্জে ওঠা ঢেউ দেখতেই হাজারও মানুষ ছুটে আসেন দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায়।
এ নগরী এখন দেশের জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা সারাদিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অলস সময় পার করতে হয় তাদের। কুয়াকাটা সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সময় কাটানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকেই আক্ষেপ নিয়ে কুয়াকাটা ত্যাগ করছেন। আবার অনেকেই লম্বাসময় নিয়ে থাকতে কুয়াকাটা এলেও দুয়েকদিন থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন ব্যবস্থা না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কুয়াকাটায় আগত অনেক পর্যটক। তবে পর্যটক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন খুব দ্রম্নতই কুয়াকাটায় একাধিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।
দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকা সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে ১৯৯৮ সালে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১০ সালে পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে কুয়াকাটা। শতাধিক হোটেল মোটেল নির্মাণ হলেও পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কোনো ধরনের পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র নির্মিত হয়নি।
সকালে সূর্যোদয়, দুপুরে সমুদ্র স্নান, বিকালে সৈকতে সূর্যাস্ত দেখার পর সন্ধ্যা নামার পর অলস সময় পার করতে হয় পর্যটকদের। এ নিয়ে পর্যটকদের রয়েছে নানা আক্ষেপ।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাব্বির রহমান আক্ষেপ নিয়ে বলেন, 'পরিবার নিয়ে সৈকতে গোসল করতে এসেছি কিন্তু আশপাশে নেই কোনো চেঞ্জিং রুম। নেই কোনো স্থায়ী লকার। বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতের পানিতে নামার জন্য নেই কোনো টিউব। এমনকি সৈকতের পরিবেশ পরিস্থিতি খুব নোংরা এবং জিও টিউব ও জিও ব্যাগে এলোমেলো অবস্থা। কুয়াকাটার প্রশংসা রয়েছে পুরো দেশজুড়ে। কিন্তু এভাবে কুয়াকাটা যদি প্রতিনিয়ত তার সৌন্দর্য হারাতে থাকে তাহলে একটা সময় কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন পর্যটকরা। তাই পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী কুয়াকাটাকে ঢেলে সাজানো উচিত বলে মনে করছি আমি।'
খুলনা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক সিফাত আকমল বলেন, সারা বাংলাদেশে যেভাবে কুয়াকাটার নাম-ডাক বা পরিচিতি, 'সে রকম তেমন পরিপাটি নয় কুয়াকাটা। সারাদিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করলেও, সন্ধ্যা নামলে সৈকতে একমাত্র ফিশ ফ্রাই মার্কেট ব্যতীত তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে এখানে প্রতিনিয়ত সব বয়সের এবং সব শ্রেণির পর্যটকরা আসছেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে পর্যটকদের এন্টারটেইনমেন্টের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই কুয়াকাটায়।'
এ বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটাকে পর্যটন নগরী ঘোষণা করার পর থেকে পর্যায়ক্রমে উন্নত হচ্ছে এ নগরী। তবে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা অধিকাংশ পর্যটকই লম্বা ছুটি নিয়ে আসলেও তা কাজে লাগাতে পারছেন না। কারণ কুয়াকাটায় যে দর্শনীয় স্থানগুলো রয়েছে তা এক দিনের মধ্যেই ঘুরে আসা যায়। তাই এরপর আর ওই পর্যটকদের কুয়াকাটা অবস্থান করার মানসিকতা থাকে না। তবে পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক, ইকো রিসোর্ট, সাংস্কৃতিক অঙ্গন, সিনেমা হলসহ পর্যটকদের সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা থাকলে প্রতিনিয়ত কুয়াকাটায় পর্যটক বাড়তো।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা নিয়ে একটি বড় মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। সেই প্ল্যান অনুযায়ী খুব দ্রম্নত কুয়াকাটায় কাজ শুরু হবে। এবং সেই প্ল্যানে একটি পরিপূর্ণ পর্যটন নগরীতে যা যা থাকা দরকার সবই রয়েছে। কুয়াকাটা হবে বাংলাদেশের বুকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী।
এ বিষয় কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, 'কুয়াকাটাকে নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন মাস্টারপস্ন্যানে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু বিনোদন কেন্দ্রের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। কুয়াকাটাকে নিয়ে সরকারের মাস্টারপস্ন্যান বাস্তবায়ন হলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের রাইড, ওয়াটার পার্ক, মিউজিয়ামসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র নির্মিত হবে। এছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনে পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের জন্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী রাখাইন সম্প্রদায়ের শিল্পী এবং আঞ্চলিক লোকাল শিল্পীদের নিয়ে সমুদ্র সৈকত এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমি কথা বলে দেখব।'
-B