ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য নীতি : ৫ শতাংশ বাড়লো বৈশ্বিক শুল্ক

-মনিটর অনলাইন Date: 22 February, 2026
ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য নীতি :  ৫ শতাংশ বাড়লো বৈশ্বিক শুল্ক

ঢাকাঃ বিশ্বের সব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত অস্থায়ী পারস্পরিক শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি জানান, আগে নির্ধারিত ১০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার রায় দেওয়ার পরপরই এই নতুন ঘোষণা আসে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রথমে পুনরায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তবে তারও কিছু সময় পর তিনি তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ঘোষণা দিচ্ছেন যে আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হলো। 

তার দাবি, বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অসাধু সুবিধা নিয়েছে এবং তার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত এর যথাযথ বিচার হয়নি। এখন থেকে আইনের আওতায় এই বাড়তি কর কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, নতুন ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই শুল্ককে স্থায়ী ও পূর্ণ আইনি বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে তার প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। অর্থাৎ, সাময়িক সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ)-এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিনির্ভর বহু পণ্যের দাম বেড়ে যায় এবং ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তার নির্বাহী ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের মতে, এমন ব্যাপক শুল্ক আরোপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল। এই রায়ই মূলত প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।

আদালতের রায় এবং তার পরপরই নতুন শুল্ক ঘোষণার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব কী হবে এবং কংগ্রেসের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক কোন দিকে গড়াবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor