ঢাকা : কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং তুলনামূলক দ্রুত পণ্য পরিবহনে পূর্ণাঙ্গ বায়ুচালিত একটি পণ্যবাহী (কার্গো) জাহাজ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি শিপিং কোম্পানি ‘ভেলা’।
আগামী বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজ চলাচল শুরুর প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভেলার দাবি অনুযায়ী, নতুন নৌযান প্রচলিত জাহাজের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করবে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে গন্তব্যে পণ্য সরবরাহ পৌঁছে দেবে।
২২০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশেষায়িত জাহাজটি একবার ভ্রমণে ৪০০ টনের বেশি পণ্য বহন করতে পারবে। আধুনিক কনটেইনারবাহী জাহাজের সমান গতিতে চলার জন্য এতে ৬১ মিটার উঁচু পাল বা সেইল ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ব্যবহার হবে সৌর প্যানেল ও হাইড্রো-জেনারেটর। এতে করে পরিবেশের কোনো ক্ষতি ছাড়াই পণ্য বহন সম্ভব হবে।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিষেবাটি মূলত ওষুধ ও প্রসাধনীর মতো মূল্যবান পণ্য সরবরাহের জন্য নকশা করা হয়েছে। অবশ্য কার্গোবাহী উড়োজাহাজের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে গন্তব্যে পৌঁছবে। তবে ধারণক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় সুফলও বেশি। এছাড়া আকাশ পরিবহনে কার্বন নিঃসরণের মাত্রাও বেশি।
প্রচলিত কনটেইনার শিপের তুলনায় জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে পণ্য পরিবহনে দুই-চার গুণ বেশি গতিতে কাজ করতে সক্ষম হবে। কারণ এটি পথে অন্য কোনো বন্দরে না থেমে সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছবে।
পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পাল তোলা জাহাজটি সামুদ্রিক প্রাণীর জন্যও নিরাপদ বলে জানিয়েছে ভেলা। সাধারণ জাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ তিমিসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু ভেলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে পানির নিচে কোনো ধরনের শব্দদূষণ হবে না।
চলতি বছরের শেষের দিকে ফিলিপাইনে পরিবেশবান্ধব জাহাজটির নির্মাণ শেষ হতে পারে এবং আগামী বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখলে ২০২৮ সালের মধ্যে এমন আরো পাঁচটি জাহাজ সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভেলার।
-B