ঢাকাঃ সৌদি আরবে পর্যটন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। শুধু ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেই এই খাতে ১০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের সংখ্যাই বেশি।
দেশটির পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫২০ জন পর্যটন খাতে নিয়োগ পেয়েছে, যা মোট শ্রমশক্তির ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
‘ভিশন ২০৩০’ অনুযায়ী জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সৌদি আরব। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বছরে ১৫ কোটি দর্শনার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সেই লক্ষ্য পূরণের পথে বড় সাফল্য।
পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ ট্যুরিজম এস্টাবলিশমেন্টস স্ট্যাটিস্টিকস প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটিতে পর্যটন-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯ হাজার ৬৯১ জনে। এটি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ শতাংশের বেশি অবদান রাখবে এই খাত। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর অপারেশন, বিমান চলাচল, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ‘আহলুহা’ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একত্রে আগ্রহী জনবলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
ধর্মীয় পর্যটন সৌদি আরবের একটি বড় শক্তি। ২০২৪ সালে হজ ও ওমরাহ পালন করেন ৩ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মুসল্লি। এতে করে ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলো ঘিরে সেবা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর কর্মীদের জন্য এটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করে ও আধুনিক পর্যটন আইন প্রণয়ন করা সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য নিজেদের আরও উন্মুক্ত করেছে। ফলে বহুভাষায় দক্ষ এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। সরকার পর্যটন খাতের পুরো ভ্যালু চেইনে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আতিথেয়তা ও সেবাখাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। কারণ এদেশের মানুষ সহজাতভাবেই মার্জিত। এছাড়াও তারা মানুষের সেবা করতে জানে এবং ভিন্ন সাংস্কৃতির সাথেও মানিয়ে নিতে পারে। তাই তারা সৌদি পর্যটন খাতে ভালো কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বহুমুখী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের এই রূপান্তর ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-B