ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা অন্তত ৮টি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অফিসগুলোকে চলতি মাসের শুরুর দিকে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং ব্যবহার না করলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা।
অফিসগুলোকে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি অফিসে এই নিয়মগুলো তদারকি করতে সরকার একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠন করবে।
-B