ঢাকাঃ বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠায় নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। বিশ্বের সেরা ১০০টি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৫২টি এখন বাংলাদেশের, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) আরও ৫টি পোশাক কারখানা নতুন করে পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এর মধ্যে ৩টি গোল্ড এবং ২টি প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে।
সংস্থাটি জানায়, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড)’ মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব সনদ দেয়।
ইউএসজিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবুজ কারখানার এই অগ্রযাত্রা বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, সবুজ কারখানা শুধু পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে না, বরং দেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এসব সবুজ কারখানার পণ্য বিশ্বের আন্তর্জাতিক বাজারে 'গ্রিন ট্যাগ' সঙ্গেই বিক্রি হয়, যা ক্রেতাদের কাছে পণ্যের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। এই সনদ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের মর্যাদা ও আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশের শিল্পের ব্র্যান্ড ইমেজকে আরো শক্তিশালী করেছে।
বিদায়ী ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড (এলইইডি) সনদ অর্জন করে সবুজ কারখানার তালিকায় যুক্ত হয়েছে— যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর ফলে বিশ্বে সবুজ কারখানার সংখ্যায় শীর্ষ অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে মোট ২৮০টি লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা রয়েছে; যা বিশ্বে সর্বাধিক। এর মধ্যে ১১৮টি প্লাটিনাম এবং ১৪৩টি গোল্ড রেটিং অর্জন করেছে; যা বিশ্বব্যাপী সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড রেটেড কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশের; যা পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের নেতৃত্বের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
-B