আইজিসিসির আয়োজনে গাড়োদের বর্ণিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট Date: 23 November, 2021
আইজিসিসির আয়োজনে গাড়োদের বর্ণিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
ছবি-----------------------ওহিদুজ্জামান টিটু

আজকাল বিকাল এতটুকু সময় দিতে চাই না সন্ধ্যাকে। সবেমাত্র সন্ধ্যা নামছে, বাইরে হিম, গাড়ীর অজস্র ভেপুর শব্দ সেই সাথে অসংখ্য মানুষের কোলাহল আর ভিতরে বাঙালিকে তার ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিতে গতকাল সোমবার ঘরোয়া পরিবেশে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজন করে গারো সম্প্রদায়ের এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারোদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী সম্প্রদায়।
ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা বর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গুলশানের ইন্ডিয়া হাউজে এনগেন ডান্সিং ক্লাব গারোদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে গানে ও নাচ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড: নীপা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গারো সম্প্রদায় ভারত বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় বসবাস করে। তাদের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময়। তবে পাশাপাশি দুই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতিও এতে ফুটে ওঠে। তাদের এই পরিবেশনা দুটি দেশের সংস্কৃতিকেই প্রতিনিধিত্ব করে।’
অনুষ্ঠানে গারো শিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের মধ্য নিজেরে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। এছাড়া দলটি রাখাইন নৃত্য ও হাজং নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মন মাতায়।
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বৈচিত্র্যময়  নাচ-গানের পরিবেশনায় হৃদয় ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদর্শকের। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী গারো শিল্পীরা পরিবেশন করেন এসব উপস্থাপনা। বাঁশির সুরেলা শব্দধ্বনিতে পরিবেশনা পর্বের সূচনা হয়। গারো ভাষার গানের সুরে বাঁশিতে সুর ছড়ান ম্যাথিউস রাংসা।
এরপর ত্রিপুরা ভাষার রোমান্টিক সুরকে সঙ্গী করে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য। নাচের সঙ্গে গাওয়া গানটির শিরোনাম ছিল ‘টুরু রুটু টুরু রু করে বাঁশি বাজছে আর সবাই পাড়ায় ঘুরবো আনন্দ করবো।  
এরপর গারো ভাষার সুরকে সঙ্গী করে মঞ্চে আসেন হানসেঙ্গা রেমা। তার পরিবেশিত সঙ্গীতটির শিরোনাম ছিল ‘আয়ো আয়ো আহো আহো আমানি আসং। বংশী বাদনের পর পুনরায় সঙ্গীতকে সঙ্গী করে মঞ্চে আসেন ম্যাথিউস রাংসা। গেয়ে শোনান ‘সিমসাং ছি রিগামো আংগা’ শিরোনামের ঐতিহ্যবাহী গারো সঙ্গীত। পরিবেশনায় শ্রোতারা  উপভোগ করেন হাজং ভাষার গানের সুরে উপস্থাপিত দ্বৈত নৃত্য। ‘লিং লিংওয়া গোসানি : মৌ বাহা বানাইছে’ শীর্ষক গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন অভ্র নকরেক ও মিশ্র চিসিম। 
এরপর গারো ভাষার গান শোনান সমাপন স্নাল। তিনি গেয়ে শোনান ‘আং আদক সিলবে বেইরা রেমিখ্যাং’ শিরোনামের গান। গারোদের ওয়াংগালা উৎসবে পরিবেশিত সঙ্গীতের সুরে নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
 

Share this post



Also on Bangladesh Monitor