ঢাকাঃ ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে মানুষের জীবন যখন নাভিশ্বাস, তখন এক অদ্ভুত কিন্তু দারুণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহর কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩ মে) তপ্ত দুপুরের রোদে সিউলের হান নদীর ধারের একটি পার্কে জড়ো হয়েছিলেন শত শত তরুণ-তরুণী। তবে এ জমায়েত কোনো প্রতিবাদ বা উৎসবের জন্য নয়, বরং শান্তিতে একটু ‘ঘুমিয়ে নেয়ার’ জন্য।
সিউল মেট্রোপলিটন সরকার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘পাওয়ার ন্যাপ কনটেস্ট’ বা ‘দুপুরবেলার ঘুমের প্রতিযোগিতা’।
বিশ্বজুড়ে পরিশ্রমী জাতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিচিতি থাকলেও সেখানকার মানুষের মধ্যে ঘুমের অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। আর সেই ক্লান্তিকে উদযাপন করতেই টানা তৃতীয় বছরের মতো ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এবারের আসরের শর্ত ছিল বেশ মজার। অংশগ্রহণকারীদের ‘স্লিপিং বিউটি’ বা রাজপুত্রের মতো পোশাক পরে আসতে হবে। আর শর্তানুযায়ী, ভরপেটে অনেকটা ক্লান্ত হয়েই প্রতিযোগিতার মাঠে হাজির হতে হবে।
এদিকে মাঠে গিয়ে দেখা যায় বিচিত্র সব দৃশ্য। কেউ এসেছেন প্রাচীন জোসন রাজবংশের রাজকীয় পোশাকে, আবার কেউ সেজেছেন কোয়ালার সাজে।
২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পার্ক জুন-সিওক রাজকীয় পোশাক পরে এসেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি আর পার্ট-টাইম চাকরির চাপে দিনে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পান। তাই আজকের এ সুযোগে তিনি বিশ্বকে দেখাতে চান একজন ‘রাজা’ কীভাবে আয়েশ করে ঘুমান।
অন্যদিকে, ইলসান থেকে আসা ইংরেজি শিক্ষক ইউ মি-ইয়ন পরেছিলেন বড় আকারের কোয়ালার পোশাক। অনিদ্রায় ভোগা এ তরুণীর আশা, গভীর ঘুমের জন্য পরিচিত কোয়ালার সাজ পরে হয়তো আজ একটু শান্তিতে ঘুমানো যাবে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল বেশ বৈজ্ঞানিক। দুপুর ৩টায় যখন সবাই চোখে মাস্ক পরে ঘুমের দেশে পাড়ি জমালেন, তখন আয়োজকরা সবার হৃদস্পন্দন মেপে দেখছিলেন। যার হৃদস্পন্দন সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকবে, তাকেই বিজয়ী হিসেবে ধরা হবে। কারণ স্থিতিশীল হৃদস্পন্দন গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুমের লক্ষণ। দিনশেষে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার জিতে নেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ।
আর প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন চাকুরিজীবী ৩৭ বছর বয়সী হোয়াং দু-সং। পেশাগত কারণে তাকে রাতের শিফটে কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত গাড়িও চালাতে হয়। হোয়াং জানান, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে নদীর মৃদুমন্দ বাতাসের মাঝে নিজেকে রিচার্জ করতেই তিনি এখানে এসেছিলেন। পুরস্কার পেয়ে তিনি খুব আনন্দিত।
-B