ঢাকাঃ চীনের কাছ থেকে ২০০টি জেট উড়োজাহাজের সম্ভাব্য নতুন ক্রয়াদেশের ঘোষণা দিয়েও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারেনি মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেও বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় সংখ্যাটি কম হওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে যায়।
দুই পরাশক্তির শীর্ষ সম্মেলনটি শুরু হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেট এবং বেশকিছু ব্যয়বহুল ওয়াইডবডি বা বড় আকারের উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২০০টি উড়োজাহাজের চূড়ান্ত ঘোষণা আসায় তা বাজারের প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম প্রমাণিত হয়।
এ চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজের মডেল বা হস্তান্তরের সময়সীমা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শেয়ারবাজারের এ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই পরাশক্তির মধ্যকার এ শীর্ষ বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছিলেন সংশ্লিষ্টরা। গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল, এ সম্মেলনে তার মেয়াদ বাড়ানোর কথা ছিল। আগের চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক স্থগিত করেছিল এবং চীনও বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের দুষ্প্রাপ্য খনিজ উপাদান সরবরাহ সচল রাখতে রাজি হয়েছিল।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এভিয়েশন বাজার হিসেবে পরিচিত চীনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বোয়িং এবং ইউরোপের এয়ারবাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। এর আগে এয়ারবাস চীনের বাজারে বোয়িংকে ছাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। এমনকি তারা তিয়ানজিনে একটি সংযোজন কারখানাও স্থাপন করে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ভ্রমণ চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে দেশটির বিপুলসংখ্যক নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন। বাজার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে চীনের অন্তত ৯ হাজার নতুন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং প্রায়ই বিভিন্ন কূটনৈতিক সম্মেলনকে বড় ধরনের উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ ঘোষণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে। এটি বাণিজ্যিক বাস্তবতার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়। চীনে উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
চুক্তি সম্পন্ন ও বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী ল্যারি কাল্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করছেন। বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ এখনো এ সফরে আরো নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশা করছেন, তবে প্রাথমিক এ ঘোষণায় প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বাজারে বর্তমানে এক ধরনের সতর্কতা বিরাজ করছে।
-B