দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারো দেশের উত্তরবঙ্গের সাথে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলরুট চালু হওয়ায় পর্যটন শিল্পের জন্য উন্মোচিত হয়েছে নতুন দিগন্তের।
এই রুট দিয়ে মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে আগেই। করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। কিন্তু দুই দেশের করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হতে পারে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। যা সহজ করবে ঢাকা-দার্জিলিং সংযোগ। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে অন্য রেলপথও খুলে যাবে।
এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয় সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, দীর্ঘ দেড় বছর পর পর্যটকদের জন্য ভিসা চালু করেছে ভারত। ১৫ অক্টোবর থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে পর্যটক ঢুকতে পারছেন। ১৫ নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা। কিন্তু এখনও রেলপথে ভ্রমণের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। তবে প্রস্তুত উভয় দেশ। কাজ চলমান। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পুনরায় রেল যোগাযোগ শুরু হবে বলে আশা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। চুয়াডাঙ্গার গেদে বর্ডার হয়ে রেলপথে ভারতে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া খুলনা-কলকাতা রুটেও রেল চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জানান, ফ্লাইটে ভারতে যাতায়াত শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে রেলপথেও ভারতে যাতায়াত করা যাবে। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। করোনার প্রকোপ কমেছে। আশা করি ডিসেম্বর মাসেই ভারতের সঙ্গে রেলপথে যাতায়াত করতে পারবো। ফলে ঢাকা-দার্জিলিংসহ অন্য রুটও এই সময়ে খুলে যাবে। তবে নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।
চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লিংক স্থাপনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রহীম জানান, রেলপথটি এরই মধ্যে চালু হয়েছে। বর্তমানে এ রেলপথ দিয়ে মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে করোনার কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ। দ্রুত সময়ে এই পথ খুলে দেওয়া হবে। রেলপথজুড়ে আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য আরও কিছু অর্থ ব্যয় করা হবে রেলপথটিতে।
এ পথটি ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বন্ধ হয়। বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে বন্ধ থাকা রেল লিংক পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালে সে লক্ষ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লিংকটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য ২০১৮ সালে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি ও চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।