কক্সবাজার সৈকতের কাছে সাগরে দলবেঁধে খেলায় মেতেছে ডলফিন। সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের মাঝামাঝি দেখা যাচ্ছে এদের নাচন আর খুশিতে আত্মহারা হচ্ছে পর্যটকের দল।
ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় কখনও দু’একটা করে, আবার কখনও কখনও দলবেঁধে— সাগরজলে সাঁতার-ডোবা খেলায় যেন মাতোয়ারা ডলফিন ঝাঁক জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন সময়ের যখন সমুদ্রসৈকতে লোক সমাগম বন্ধ ছিলো, তখন ডলফিনের নাচ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার শীতের শুরুতে অদূর সৈকতের কাছে দল বেঁধে দাপাদাপি করছে ডলফিনগুলো।
রামু পেঁচার দ্বীপ এলাকার জেলে রুহুল আমিন বলেন, ‘সাগরে ডলফিন নতুন কিছু নয়। তবে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। গত বছরও হিমছড়ি এলাকায় সাগর উপকূলের কাছাকাছি ডলফিন দেখেছি। সাগরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পানিতে ডলফিনের দল সাঁতরে বেড়ায়।’
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল ওশানোগ্রাফি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, কক্সবাজারের সোনাদিয়া মহেশখালী বঙ্গোপসাগর চ্যানেলে দুটি ডলফিন পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। একেকটি পরিবারে ১০/১২টির বেশি ডলফিন থাকে। সাগরে এরা দল বেঁধে চলাফেরা করে। বর্তমানে চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত ডলফিন দেখা যায়। ডলফিন সবসময় নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করে। ভোরে সৈকত একেবারে নিশ্চুপ থাকে বলেই লাবনী পয়েন্টে চলে এসেছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু জানান, ডলফিন মূলত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানিতে বিচরণ করে। ফলে স্বচ্ছ পানিতে এসব স্তন্যপায়ী প্রাণী গুলো খেলায় মেতে ওঠে।