ঢাকাঃ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি মঙ্গলবার (১২ মে )ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘস্থায়ী উচ্চমূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং বাজারে দুর্বল মনোভাবকে এই পতনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনের শুরুতে রুপি ডলারের বিপরীতে ৯৫.৫০ স্তরে লেনদেন শুরু করে, যা আগের রেকর্ড ৯৫.৪৩২৫কে ছাড়িয়ে যায়। পরে মুদ্রাটি আরও দুর্বল হয়ে ৯৫.৬২৫০ পর্যন্ত নেমে যায়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপির অবমূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.২ শতাংশে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে মুদ্রার পতন কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ফিলিপাইনের পেসো ও ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপি প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমেছে, যা এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, ফলে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি আরও বাড়বে এবং বিনিয়োগ প্রবাহও চাপের মুখে পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ তুলে নিয়েছেন। শুধু সোমবারেই প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করা হয়।
এএনজেড ব্যাংক জানিয়েছে, ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিয়োগ প্রবাহের চাপের মধ্যে রয়েছে। তারা রুপির ডিসেম্বরের পূর্বাভাস ৯৩ থেকে বাড়িয়ে ৯৭.৫ নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে বিএমআই সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে রুপি ১০০-এর কাছাকাছি নেমে যেতে পারে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের জ্বালানি ব্যবহার, ভ্রমণ ও আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস, জ্বালানি নীতি সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
-B