ঢাকাঃ দেশে চলমান সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে আবারও টানা তিনদিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে ব্যাংক। আজ সোমবার (৫আগস্ট)থেকে বুধবার (৭ আগস্ট)পর্যন্ত দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি, রফতানিসহ প্রায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকলে অভ্যন্তরীণ লেনদেনের পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যের সব কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। এ তিনদিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। আমদানি ও রফতানির ঋণপত্রও (এলসি) খোলা সম্ভব হবে না। এর প্রভাবে দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক সংকট আরো বেশি ভঙ্গুর হবে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও কারফিউ জারির প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই থেকে টানা পাঁচদিন দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একই সময় ইন্টারনেট সেবাও পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশ। ওই সময় দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি ও রফতানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল সরকারের রাজস্ব ও শুল্ক আদায় প্রক্রিয়াও।
ব্যাংক বন্ধের পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশে অর্থ লেনদেনের স্বীকৃত মাধ্যমগুলোর মধ্যে কেবল এটিএম বুথ সচল ছিল। যদিও ওই সময় দেশের বেশির ভাগ এটিএম বুথই টাকার সংকটে বন্ধ হয়ে যায়। বুথে নগদ টাকার সংকট এখনো চলছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার এটিএম বুথে গতকালও চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গতকাল থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সংঘাত, সংঘর্ষ ও প্রায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। সহিংসতার কারণে গতকাল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেও দেশের ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগ শাখা বন্ধ ছিল।
অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সুশাসনের ঘাটতি, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক আগেই দেশের অর্থনীতি জাহান্নামে পতিত ছিল। এখন সেটি আরো বড় দুর্যোগের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
-B