ঢাকাঃ ৫০টি দেশের ফুটবল সমর্থকদের জন্য জামানত শর্ত স্থগিত হলেও ইরান ও হাইতির ভ্রমণকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট সফরের ক্ষেত্রে ওই দেশগুলোর খেলোয়াড় ও কোচরা ছাড় পাবেন।
বিদেশী ফুটবল সমর্থকদের জন্য ১৫ হাজার ডলার ভিসা জামানতের শর্ত তুলে নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় থাকছে ৫০টি দেশ। তবে শর্ত হলো, তাদের কাছে অবশ্যই বিশ্বকাপের বৈধ ম্যাচ টিকিট থাকতে হবে।
১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামডার বলেন, ‘যেসব শর্ত পূরণকারী সমর্থক বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন, তাদের জন্য আমরা ভিসা বন্ড বা জামানত মওকুফ করছি।’
গত বছর এ বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশীদের থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপের খেলোয়াড় ও কোচরা আগেই জামানত শর্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে নিশ্চিত টিকিট থাকা সাধারণ দর্শকদের বুধবার পর্যন্ত এ সুবিধার আওতায় আনা হয়নি।
গত আগস্টে চালু হওয়া ১২ মাসের পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য ছিল ভিসার অপব্যবহার বা এমন পরিস্থিতি ঠেকানো, ‘যেখানে যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যকে অপর্যাপ্ত মনে করা হয়’। দর্শনার্থীর সফর শেষে জামানতের অর্থ ফেরত দেয়ার নিয়ম রয়েছে এ নির্দেশনায়।
এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, এ ঘোষণা হোয়াইট হাউজের সঙ্গে তাদের চলমান সহযোগিতার প্রমাণ, যার লক্ষ্য ‘একটি সফল, রেকর্ড গড়া ও স্মরণীয় বৈশ্বিক আয়োজন’ উপহার দেয়া।
ফিফা আরো বলছে, চলমান অংশীদারত্বের জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।
৫০টি দেশের ফুটবল সমর্থকদের জন্য জামানত শর্ত স্থগিত হলেও ইরান ও হাইতির ভ্রমণকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট সফরের ক্ষেত্রে ওই দেশগুলোর খেলোয়াড় ও কোচরা ছাড় পাবেন।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া আইভরি কোস্ট ও সেনেগালের ভ্রমণকারীরা সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আংশিক বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আরো ঘোষণা দিয়েছিল, অনেক দেশের পর্যটকদের প্রবেশের শর্ত হিসেবে গত ৫ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ইতিহাস জমা দিতে হতে পারে। এ নীতিও বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দর্শকদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এ ধরনের নীতির কারণে ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, গ্রেফতারের ঝুঁকি, বাড়তি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তদারকি, বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং এবং নজরদারির মুখে পড়তে পারেন।
-B