ঢাকাঃ বিশ্বব্যাপী আবারও ছড়িয়ে পড়েছে মাংকিপক্স নামের পরিচিত উচ্চমাত্রার সংক্রামক রোগ এমপক্স। এর একটি বেশি মারাত্মক ধরনের বিস্তার ঘটায় সতর্কতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান সহ মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়েছে এমপক্স। এই রোগের নতুন একটি ধরনের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং এর উচ্চ মৃত্যুহার নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা।
শুরুর দিকে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অন্তত সাড়ে চার শ লোকের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে।
ডাব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেন, ‘আফ্রিকাজুড়ে ও এর বাইরের দেশগুলোতে এমপক্সের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা খুবই উদ্বেগজনক। এই রোগের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।’
আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংসর্গ, ত্বকের স্পর্শ, এমনকি খুব কাছাকাছি থেকে কথোপকথন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে এমপক্স।
এর উপসর্গ সর্দিজ্বরের মতো। এতে ত্বকে গুটি থেকে ক্ষত তৈরি হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গড়পড়তা মৃত্যুহার ৪ শতাংশ।
টিকার মাধ্যমে এর বিস্তার রোধ করা যায়। তবে এ পর্যন্ত শুধু ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের টিকা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এমপক্সের দুটি প্রধান ধরন হলো ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২। এর আগে ২০২২ সালে তুলনামূলক মৃদু ধরন ক্লেড-২ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এখন আরো অনেক বেশি প্রাণঘাতী ক্লেড-১-এর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
এর আগে এই ধরনে অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এই হার বর্তমানে আরো বাড়ছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভাইরাসটির ধরনে পরিবর্তন আসে। মিউটেশনের মাধ্যমে আরেকটি উপধরন সৃষ্টি হয়, যার নাম দেওয়া হয় ক্লেড-১বি। তখন থেকে এটি দ্রুতগতিতে ছড়িয়েছে। একজন বিজ্ঞানী ক্লেড-১বিকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন বলে বর্ণনা করেছেন।
পাকিস্তানে চলতি বছর এখন পর্যন্ত তিনজন এমপক্স রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) এক ব্যক্তির পর শুক্রবার (১৬ আগস্ট) আরও দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। তিনজনই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্প্রতি পাকিস্তানে ফিরেছেন। এ অবস্থায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্কতা জারি করেছে।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে অন্তত সাড়ে চার শ জন। এর পরে বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কেনিয়া, রুয়ান্ডাসহ আফ্রিকার আরো কয়েকটি দেশে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।
এমপক্সকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে এ নিয়ে গবেষণা, তহবিলের সংস্থান ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগ দ্রুততর হওয়ার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হয়।
আফ্রিকার বাইরে প্রথম ক্লেড-১
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অবস্থা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপের দেশ সুইডেন এমপক্সের নতুন সংক্রামক ধরনটির সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানাল। এটি জানা মতে, আফ্রিকার বাইরে ওই ধরনটির প্রথম উপস্থিতির ঘটনা। সুইডেনের সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, এমপক্সের ক্লেড-১ ধরনের বড় প্রকোপ দেখা দিয়েছে আফ্রিকার এমন একটি অঞ্চলে ছিলেন ওই ব্যক্তি। প্রসঙ্গত, সুইডেনে আগেই অপেক্ষাকৃত মৃদু মাত্রার ক্লেড-২ ধরা পড়েছিল।
-B