নেপালে সহিংসতায় ক্ষতি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার

-মনিটর রিপোর্ট Date: 13 September, 2025
nepal-violence-causes-nearly-500-million-in-damage.jpg

ঢাকাঃ নেপালে চলমান ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনের সহিংসতায় কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ধ্বংস হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির বেসরকারি খাত।

নেপাল ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (এনআইএ) জানিয়েছে, সহিংসতার ফলে বীমা দাবির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা প্রায় ৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপাল (এইচএএন) জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত ২ ডজন হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু কাঠমান্ডুর হিলটন হোটেলেই ক্ষতি হয়েছে ৮ বিলিয়নের বেশি। সারাদেশে ক্ষতির পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন রুপি, অর্থাৎ প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে ২,০০০–এর বেশি কর্মী কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেশন জেড আন্দোলনের সহিংসতা নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ আর্থিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এনআইএ জানিয়েছে, বীমা খাতের ওপর চাপ বাড়ছে, কারণ “সাবোটাজ ও টেরোরিজম” কভারেজের প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতায় দাবির পরিমাণ সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

সংগঠনটি আশঙ্কা করছে, ক্ষতির পরিমাণ ২০১৫ সালের ভূমিকম্প–পরবর্তী বীমা দাবিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—হিলটন হোটেল, ভাটভাটেনি সুপারমার্কেট, এনসেল, সিজি ইলেকট্রনিকস, গ্লোবাল কলেজ, উলেন্স স্কুল ও সেন্ট্রাল বিজনেস পার্ক।

এইচএএন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলগুলোর অনেকগুলো পুনর্গঠন ছাড়া চালু করা সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

এছাড়া দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা না করা হলে পর্যটন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি। 

সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা এবং পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। তারা সতর্ক করে দিয়েছে, সময়মতো সহায়তা না এলে নেপালের পর্যটন খাত ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতও ক্ষতির হাত থেকে বাদ যায়নি। অন্তত ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ও একাধিক এক্সটেনশন কাউন্টার আক্রান্ত হয়েছে।

নেপাল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ)সভাপতি সন্তোষ কৈরালা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নেওয়া হচ্ছে। নেপালের অ-জীবন বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০.৩৪ বিলিয়ন রুপি প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ২০. ৭১ বিলিয়ন রুপি দাবি পরিশোধ করেছে। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রিমিয়াম বেড়ে দাঁড়ায় ৪১.৪৭ বিলিয়ন রুপি, দাবি কমে আসে ১৭.৯০ বিলিয়নে। কিন্তু চলমান সহিংসতা এ চিত্র মুহূর্তেই পাল্টে দিয়েছে।

-B

Share this post