ঢাকাঃ ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানকে ধারণ করে ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
নয় দিনব্যাপী এই উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যা উৎসবটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
উৎসবের সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান অর্জন করেছে কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’। চলচ্চিত্রটিতে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভেতরে নারীর অধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব ও নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানবিক গল্প বলার ভঙ্গি ও শক্তিশালী উপস্থাপনার জন্য বিচারকদের মন জয় করে নেয় সিনেমাটি।
এবারের উৎসবে সেরা নির্মাতার পুরস্কার পেয়েছেন আজারবাইজানের পরিচালক এমিন আফান্দিয়েভ। তার নির্মিত ‘আ লোনলি পারসন মনোলোগ’ চলচ্চিত্রটির জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। একাকীত্ব, মানসিক সংকট ও আত্মসংলাপের মধ্য দিয়ে মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির প্রকাশ সিনেমাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারকরা।
অভিনয়ে নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন কাজাখস্তানের ইয়ারলান। তিনি ‘আবেল’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে এই পুরস্কার অর্জন করেন। একই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ইরানের অভিনেত্রী ফারিবা নাদেরি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন তার ‘দ্য হাসব্যান্ড’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য। এছাড়া ‘আবেল’ সিনেমার চিত্রগ্রহণের জন্য সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরস্কার পেয়েছেন জোলানতা দেলুস্কা।
দেশীয় চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও এবারের উৎসবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে ফিপ্রেস্কি জুরির বিচারে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মনিরুল হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। সামাজিক বাস্তবতা ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরা এই চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দর্শকদের ভোটে প্রদত্ত অডিয়্যান্স অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ড্রেইনড বাই ড্রিমস’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন শেখ আল মামুন। একই সঙ্গে দর্শক পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে চীনের সিনেমা ‘অল কোয়াইট অ্যাট সানরাইজ’। দুটি সিনেমাই দর্শকদের আবেগ ও বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
শিশুদের চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে চীনের সিনেমা ‘কুইংটন অ্যান্ড কুইহুয়া’। শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও কল্পনার জগৎকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য সিনেমাটিকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
এবারের উৎসবে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথি, নির্মাতা ও দর্শকের অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সফলভাবে শেষ হওয়া এই উৎসব আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
-B