ঢাকাঃ প্রখর রোদ আর তপ্ত হাওয়ার মাঝেও বৈশাখে ফুটে উঠেছে প্রকৃতির অন্যরূপ। রংবেরঙের ফুলে সেজে উঠেছে চারপাশ, আর সোনালি সোনালু যেন এই ঋতুর ক্লান্ত দুপুরে ছড়িয়ে দিচ্ছে অনন্য প্রশান্তি।
গ্রামবাংলার শান্ত জনপদ ছাপিয়ে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখন সোনালুর ছড়াছড়ি। পিচঢালা রাস্তার সমান্তরালে যেন বয়ে চলেছে হলুদের অবিরাম এক স্রোত। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভাজকগুলোতে ফুটে থাকা শত শত সোনালু ফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কেউ যেন পরম মমতায় হলুদ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে, যা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ‘হলুদ অভ্যর্থনা’ জানাচ্ছে।
কুমিল্লার কোটবাড়ী–আলেখারচর সড়কের ৫ কিলোমিটারজুড়ে এখন সোনালুর সোনালি দখল। ঝুমকোর মতো ঝুলে থাকা ফুলে ভরে উঠেছে গাছ, বাতাসে দুলে দুলে ছড়াচ্ছে গ্রীষ্মের অপূর্ব সৌন্দর্য।
মহাসড়কের পাশে সোনালুর রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে অনেককে গাড়ি থামিয়ে মুহূর্তটি ফ্রেমবন্দী করতে দেখা যায়।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লুনা আলম বলেন, ব্যস্ত মহাসড়কে ধুলোবালি ও ধোঁয়ার মধ্যে সোনালু ফুলগুলো যেন চোখের প্রশান্তি। তীব্র রোদের মধ্যেও হলুদ ফুলগুলো মনে শীতল একটা অনুভূতি এনে দেয়।
বাসচালক কামালের কণ্ঠেও ঝরল সোনালুর সৌন্দর্যের মুগ্ধতা। কামাল বলেন, ‘সারা দিন স্টিয়ারিং ধরে রোদের মধ্যে গাড়ি চালাই। কিন্তু মহাসড়কের মাঝখানে যখন এই সারি সারি হলুদ ফুলসহ নানা রঙের ফুল দেখি, তখন মনটা ভালো হয়ে যায়। তখন মনে অন্য ধরনের শান্তি লাগে।’
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী আশিকুর রহমান বলেন, মহাসড়কে এমন রঙিন দৃশ্য থাকলে মনটা ভালো হয়ে যায়। একঘেয়ে যাত্রাও তখন আর বিরক্তিকর লাগে না। বিভাজকে গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, মানসিক প্রশান্তির জন্যও জরুরি।
মোটরসাইকেলচালক রাসেল অনোয়ার বলেন, গ্রীষ্মের এই সময়টাতে চলাচলের সময় প্রতিদিনই তিনি কাউকে না কাউকে সোনালুর ছবি তুলতে দেখেন। ফুলের সৌন্দর্যে মানুষ থেমে যাচ্ছে, ছবি তুলছে—এটা খুব সুন্দর একটা বিষয়।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কের বিভাজকে এই বৃক্ষরোপণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সৌন্দর্যবর্ধন এবং রাতের বেলা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইটের আলো সরাসরি চালকের চোখে পড়া রোধ করা। হলুদ সোনালু এখন মহাসড়কের বুকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। তাঁদের কর্মীরা নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করেন।
-B