ঢাকাঃ ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রীরা বোর্ডিং পাস না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন।
ভিসা, টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র থাকার পরও ভ্রমণ করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অনেকে জানান, তাদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ। অনেকের কাছেই যুক্তরাজ্যের ই-ভিসা রয়েছে। তবু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে নন-রিফান্ডেবল টিকিটের অর্থ হারানোর পাশাপাশি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে।
জানা গেছে, এই সমস্যার পেছনে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (বিআরপি কার্ড) বাতিল করে ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে হালনাগাদ করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে যাচাইয়ের সময় ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ত্রুটি দেখাচ্ছে।
এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো যে ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (আইএপিআই) সিস্টেম ব্যবহার করে, সেখানে সার্ভার জটিলতার কারণেও যাত্রীর হালনাগাদ তথ্য কাউন্টারে সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিলেটে বিমান বাংলাদেশের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ জানান, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ফ্লাইটের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআই (UK Visas and Immigration) ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট আপডেট করা বাধ্যতামূলক। অনেক যাত্রী বিষয়টি না জানায় চেক-ইনের সময় দেখা যাচ্ছে, তাদের পাসপোর্ট হোম অফিসের সিস্টেমে দেখাচ্ছে না। ফলে বোর্ডিং পাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শাকিল আহমদ আরও জানান, লন্ডনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ই-ভিসা ব্যবস্থার ডিজিটাল আপডেটের কারণে সাময়িক এ সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটি সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশের কোনো ত্রুটি নয়। ব্রিটিশ হোম অফিসের সার্ভার থেকে চেক-ইনের সময় প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স না আসায় বোর্ডিং পাস দেওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, অনেক যাত্রীর তথ্য ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে না থাকায় এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ত্রুটি দেখাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে যাত্রীদের ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘ই-ভিসা’ চালুর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি।
ফলে এয়ারলাইন্সের ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ সিস্টেমে তথ্য যাচাইয়ের সময় হোম অফিসের ডেটাবেসে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেখাচ্ছে।
ব্রিটিশ হোম অফিসের ন্যাশনালিটি টিম জানিয়েছে, যাত্রীদের ফ্লাইটের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগইন করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সক্রিয় আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন পাসপোর্ট করলে তা অবশ্যই ই-ভিসা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-B