ভাড়া বাড়াতে পারে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ

-মনিটর অনলাইন Date: 27 April, 2026
ভাড়া বাড়াতে পারে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ

ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এভিয়েশন খাতে। 

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মূল প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস গ্রুপ (আইএজি) সতর্ক করে জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বাড়তে পারে। 

ইরানকেন্দ্রিক যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি তেল পরিবহন অচল হয়ে পড়েছে। চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। যেহেতু উড়োজাহাজের প্রধান পরিচালন ব্যয় আসে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানি থেকে, তাই তেলের চড়া দাম এয়ারলাইনসগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

আইএজি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা (ফুয়েল হেজিং) গ্রহণ করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতই বেশি যে তারা এ আর্থিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। ফলে বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপরই চাপাতে হতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে জেট ফুয়েলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এয়ারলাইনসগুলোকে এরই মধ্যে জ্বালানির প্রাপ্যতা ও দামের ওঠানামা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

সংকটময় সময়ে এয়ারলাইনসগুলোকে সহায়তা দিতে এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিমানবন্দরের স্লট (অবতরণ ও উড্ডয়নের সময়) সংক্রান্ত নিয়মে শিথিলতা এনেছে। সাধারণ নিয়মে কোনো এয়ারলাইনস নির্দিষ্ট স্লট ব্যবহার না করলে তা হারাতে হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ফ্লাইট ব্যাহত হলে এখন আর কোনো জরিমানা বা স্লট হারানোর ভয় থাকবে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সব এয়ারলাইনস এখনো একই পথে হাঁটছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে টিকিটের দাম বাড়াতে শুরু করেছে, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন শ্রেণীর টিকিটের দাম এরই মধ্যে বাড়িয়েছে ভার্জিন আটলান্টিক এয়ারলাইনস। এদিকে বাজেট ক্যারিয়ার বা কম খরচের বিমান সংস্থা জেট ২ জানিয়েছে, ফ্লাইট ও হলিডে প্যাকেজ আপাতত স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। ইজিজেট কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো তাৎক্ষণিক বিঘ্ন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে, তবে খরচ নিয়ে চাপে আছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন বলেন, সংকট যদি আরো ঘনীভূত হয়, তবে যাত্রীদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। হয় তাদের অনেক বেশি দামে টিকিট কিনতে হবে, নতুবা ফ্লাইট বাতিলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বিমান ভ্রমণের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরিকল্পনা করছেন, তাদের পকেট থেকে বাড়তি অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor