পর্যটনে চমক: মরক্কোয় রকেট-আকৃতির বিলাসবহুল  টাওয়ার

-মনিটর অনলাইন Date: 27 April, 2026
পর্যটনে চমক: মরক্কোয় রকেট-আকৃতির বিলাসবহুল  টাওয়ার

ঢাকাঃ আটলান্টিক মহাসাগরের কোল ঘেঁষে মরক্কোর আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এক বিশাল অট্টালিকা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত কোনো এক রকেট। 

এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং মরক্কোর বিশ্বজয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য প্রতীক বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মরক্কোর রাজধানী রাবাতের দিগন্তজুড়ে ৫৫ তলার আকাশচুম্বী ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।

বিশাল অট্টালিকাটির নাম রাখা হয়েছে দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের নামানুসারে। ৮২০ ফুট উচ্চতার ‘মোহাম্মদ সিক্স টাওয়ার’টি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ডলার। কিন্তু এর পেছনের গল্পটি আরো রোমাঞ্চকর। এর রূপকার হলেন ৯৩ বছর বয়সী বিলিয়নেয়ার ওথমান বেনজেলুন। ১৯৬৯ সালে তিনি নাসার আমন্ত্রণে অ্যাপোলো ১২ মিশনের একটি সিমুলেশনে অংশ নিয়েছিলেন। মহাকাশ ভ্রমণের সেই অভিজ্ঞতাই তাকে রকেটের আদলে ভবন তৈরির স্বপ্ন দেখায়।

দীর্ঘ ৮ বছরের পরিশ্রম ও বিভিন্ন দেশের আড়াই হাজার শ্রমিকের চেষ্টায় সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আকাশচুম্বী ভবনটি রাবাতের গ্র্যান্ড থিয়েটারের কাছে অবস্থিত। এখান থেকে আটলান্টিক মহাসাগর এবং রাবাত ও সালে শহরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এর ১ দশমিক ১ মিলিয়ন বর্গফুট এলাকাজুড়ে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ভবনের ভেতরে থাকছে বিলাসবহুল ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেল, উচ্চমানের অফিস এবং আধুনিক শপিং মল, আকর্ষণীয় রেস্তোরাঁ ও অভিজাত সব অ্যাপার্টমেন্ট।

মরক্কো বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ । ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এ বিশাল প্রকল্পটির মাধ্যমে মরক্কো নিজেদের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চায়। 

টাওয়ারটির উন্নয়ন সংস্থা ‘ও টাওয়ার’-এর পরিচালক লায়লা হাদ্দাওয়ি জানান, প্রকল্পটি সরাসরি ৪৫০ জন এবং পরোক্ষভাবে আরো সাড়ে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। 

পর্যটকদের কাছে সাধারণত রাবাত বা সালে শহর ততটা পরিচিত নয়। কিন্তু এ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের সেই ধারা বদলাতে চায় সরকার। এমনকি উদ্বোধনের আগেই টাওয়ারটি মরক্কোর ২০০ দিরহামের নোটের ওপর স্থান পেয়েছে।

তবে এ চাকচিক্যের আড়ালে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, মরক্কোর উন্নয়ন কেবল আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে। দেশের অন্যান্য এলাকা এখনো অনুন্নত থেকে যাচ্ছে। গত বছর জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া প্রতিবাদগুলোয় বেকারত্ব এবং ভেঙে পড়া জনসেবা নিয়ে ক্ষোভ ফুটে উঠেছিল। তা সত্ত্বেও মরক্কোর নীতিনির্ধারকদের কাছে টাওয়ারটি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ক্রমবর্ধমান ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রতীক।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor