কক্সবাজারঃ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কলাতলী মোড় থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত দরিয়ানগর এখন প্রকৃতি ও পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বোরোচোরা এলাকার আশপাশে বিস্তৃত পাহাড়ি ঢালজুড়ে দেখা যায় মনোমুগ্ধকর সবুজ প্যানোরামিক দৃশ্য, যা দর্শনার্থীদের জন্য এক প্রশান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এ অঞ্চলটি ঘন বাঁশঝাড়, কোরাই, মেহগনি, চাপালিশ ও সেগুনসহ বিভিন্ন বনজ বৃক্ষে সমৃদ্ধ। প্রাকৃতিক এই বনভূমিতে নানা প্রজাতির পাখিরও বিচরণ রয়েছে, যা পুরো পাহাড়ি পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখানে কিছু বন্য বানরের দলও রয়েছে, যারা প্রায়ই খালের আশপাশে নেমে আসে। তারা নির্ভীকভাবে চলাফেরা করে এবং অনেক সময় দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করে, বিশেষ করে শিশুদের কাছে এটি বাড়তি আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে।
কক্সবাজারের দরিয়ানগরে উঁচু পাহাড়ের নিচে প্রায় আধ কিলোমিটার দীর্ঘ আঁকাবাঁকা একটি প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গপথ রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘শাহেনশাহ গুহা’ নামে পরিচিত। এর দক্ষিণে রয়েছে কিংবদন্তির ‘পরিমুড়া’, যা বর্তমানে হিমছড়ি ঝরনা নামে পরিচিত।
স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, হিমপরি নামের এক পৌরাণিক চরিত্র ও শাহেনশাহ নামের এক তরুণের প্রেমকাহিনি এই অঞ্চলের ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
গুহার ওপর প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড়চূড়ায় কাঠ ও ছন দিয়ে তৈরি ‘চেরাংঘর’ থেকে দেখা যায় বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত নীল জলরাশি, মাছ ধরার ট্রলার ও দূরের নৌযান।
এছাড়া পাহাড়ের নিচে পর্যটকদের জন্য রয়েছে বাংলো, রেস্টহাউস ও ‘সানসেট ভিউ পার্ক’। পার্কের পাশে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে কুঁড়েঘর ও রেস্তোরাঁ, যেখানে অবস্থান করে নিরাপদে রাত যাপনের সুযোগ রয়েছে।
দরিয়ানগরে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য রয়েছে প্যারাসেইলিং সুবিধা, যা স্পিডবোটের মাধ্যমে সমুদ্রের উপর দিয়ে উড্ডয়নের অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর দরিয়ানগর এখন কক্সবাজার অঞ্চলের সম্ভাবনাময় একটি ইকো-ট্যুরিজম স্পট হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে।
-B