মহামারী-পরবর্তী সময়ে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন বাড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) বলেছে, গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে উত্তর গোলার্ধে পর্যটক বাড়ায় জুনে বেশ্বিক এয়ারলাইনস যাত্রীর পরিমাণ কভিডপূর্ব পরিস্থিতির ৯৪ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে।
আইএটিএর মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ট্রাফিক সংখ্যা ২০২২ সালের একই মাসের তুলনায় জুনে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে যাত্রীসংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ায় এ প্রবৃদ্ধি এসেছে।
জুনে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ চাহিদা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০১৯ সালের জুনের চেয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রাফিক ২০২২ সালের জুনের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে বাজারে প্রবৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চাহিদা ২০১৯ সালের জুন স্তরের ৮৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। আর ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে, আন্তর্জাতিক ট্রাফিক গত বছরের প্রথম ছয় মাসের সময়ের তুলনায় ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
আইএটিএ মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেছেন, ‘উড়োজাহাজ কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ার অর্থ হচ্ছে এয়ারলাইনস, স্থানীয় অর্থনীতি এবং ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক চাকরির জন্য সুসংবাদ। কারণ উড়োজাহাজ শিল্পের অব্যাহত পুনরুদ্ধারের ফলে এরা সবাই উপকৃত হয়।’ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসে জুনে গত বছরের তুলনায় ট্রাফিক ২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় সক্ষমতা বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এয়ারলাইনসগুলোর আসন সংখ্যা কতটা পূরণ হচ্ছে তা পরিমাপকারী লোড ফ্যাক্টর পয়েন্টে ২ শতাংশ উন্নতি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। বর্তমানে লোড ফ্যাক্টর পয়েন্ট বেড়ে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেবিচকের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন
আইএটিএ বলছে, আফ্রিকান এয়ারলাইনসের ট্র্যাফিক ২০২২ সালের জুনের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। একই সময়ে সক্ষমতা ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে লোড ফ্যাক্টর সূচকে ৫ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৬৮ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে, যা অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ওয়ালশ বলেন, ‘উড়োজাহাজ চলাচলের সরবরাহ চেইনে বিদ্যমান সমস্যার মধ্যেই ভ্রমণের চাহিদা সক্ষমতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এয়ারলাইনসগুলোকে নতুন জেট ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং পার্ক করে রাখা উড়োজাহাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে ভ্রমণ চাহিদা যতটা প্রবল আছে নিঃসন্দেহে এ হার আরো বৃদ্ধি পাবে।’
আরও পড়ুন: বিশেষ ছাড়ে চীনের গুয়াংজু রুটে বিমানের টিকেট বিক্রয় শুরু
ভ্রমণ চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে প্রয়োজন মেটাতে মেরামত করতে দেয়া উড়োজাহাজের ডেলিভারি দিতেও এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদানকারী (এএনএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাচ্ছেন। সময়মতো ডেলিভারি দেয়ার ব্যর্থতা কিংবা দেরিতে বা পরিবর্তিত তারিখে ডেলিভারি দেয়া যাত্রী ও এয়ারলাইনগুলোর জন্য বেশ হতাশাজনক। একদিকে যাত্রী অধিকার এয়ারলাইনগুলোকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করছে, অন্যদিকে সরকারগুলোও বাস্তবতার মুখে এএনএসপির কৈফিয়তকে উপেক্ষা করতে পারছে না।
-B