সৌদি আরবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন বা পাঁচ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর নার্সারি প্রকল্প চালু করেছে রেড সি গ্লোবাল (আরএসজি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থায়িত্ব ও জীববৈচিত্র্যের প্রসারে সৌদি আরবের নেয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু হয়েছে এই নার্সারি প্রকল্প।
রেড সি গ্লোবালের সিইও জন পাগানো বলেন, আমাদের এই প্রকল্প টেকসই ম্যানগ্রোভ নার্সারি ও মরুভূমিতে জীববৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করবে।
ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ সাধারণত উপকূলবর্তী নোনা পানিতে জন্মায়। অন্যান্য গাছের চেয়ে এ জাতের গাছ পরিবেশ থেকে বিপুল কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিতে সক্ষম।
সৌদি আরবের বাস্তুতন্ত্র টেকসই রাখতে ম্যানগ্রোভের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এ কারণে লবণসহিষ্ণু এই প্রজাতি রেড সি গ্লোবাল কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। কার্বন নিউট্রালিটি নিয়ে কাজ করা সৌদি গ্রিন ইনেশিয়েটিভ প্রথম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নেয়।
ডেভেলপার কোম্পানি রেড সি উপকূল বরাবর অনেক জায়গায় এই প্রজাতির গাছ পেয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, এগুলো উপকূল অঞ্চলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাটিতে প্রাকৃতিক লবণও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
কৃত্রিমভাবে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তৈরির জন্য চারা রোপণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পাগানো বলেন, চারাগুলো ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা না হওয়া পর্যন্ত নার্সারিতে রাখা হবে। এতে প্রায় আট মাসের মতো সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের বিশেষজ্ঞরা সেগুলোর বৃদ্ধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং চারাগুলোর সুস্থতা নিশ্চিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা রেড ম্যানগ্রোভ এবং অ্যাশ ম্যানগ্রোভের মতো স্থানীয় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা বেছে নিয়েছি। এই প্রজাতিগুলো এরই মধ্যে আমাদের দেশের জলবায়ুতে টিকে গেছে। এদের মরুভূমির পরিবেশ মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা অন্য প্রজাতির তুলনায় বেশি।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে 'পারসোনাল ভিজিট ভিসা' চালু
চারাগুলো উপযুক্ত উচ্চতায় পৌঁছে গেলে ম্যানগ্রোভ পার্কগুলোয় সেগুলো রোপণ করা হবে। এই পার্কগুলো শুধু রেড সিয়ের উপকূলরেখা সংরক্ষণে অবদান রাখবে তা নয়, প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রেও বিশাল পরিবর্তন আনবে। সেইসঙ্গে ম্যানগ্রোভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে গবেষণা ও দর্শনার্থীদের জন্য শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে জানান পাগানো।
-B