ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত

-মনিটর ডেস্ক রিপোর্ট Date: 11 May, 2026
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত

ঢাকাঃ অর্থনৈতিক সংকট, মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্প। চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা আশাতীত হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড।

ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটি সমুদ্র, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বন্যপ্রাণীর অনন্য সমন্বয়ে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আবারও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রীলঙ্কা এখন শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, বরং পুনরুদ্ধার ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক।

দেশটির দক্ষিণ উপকূলের মিরিসা, উনাওয়াতুনা ও হিক্কাডুয়ার সোনালি সৈকত, নীল জলরাশি ও প্রাণবন্ত সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। সার্ফিংপ্রেমীদের কাছে আরুগাম বে ও ওয়েলিগামা বে এখন জনপ্রিয় গন্তব্য। পাশাপাশি ইউনেস্কো স্বীকৃত গল দুর্গ ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।

শুধু সমুদ্র নয়, শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ ঐতিহ্যও পর্যটকদের টানছে। সিগিরিয়া বা ‘সিংহ শিলা’, ক্যান্ডির দাঁতের মন্দির এবং প্রাচীন অনুরাধাপুরার ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশটির সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যও শ্রীলঙ্কা অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। ইয়ালা জাতীয় উদ্যানে চিতাবাঘ ও হাতির দেখা মিলছে, আর উদাওয়ালাওয়ে জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বিপুল সংখ্যক এশীয় হাতি। হর্টন প্লেইন্সের পাহাড়ি সৌন্দর্য ও ‘এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ খ্যাত খাদ ট্রেকিংপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়।

শ্রীলঙ্কা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসএলটিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৮ জন আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। জানুয়ারিতে এসেছিলেন আরও ২ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৭ জন পর্যটক। ফলে বছরের প্রথম দুই মাসেই মোট পর্যটক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৫ জনে।

পর্যটন খাতের এই উত্থানের পেছনে সরকারের নানা উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বৃদ্ধি, আবাসন সুবিধার মানোন্নয়ন, সহজ ভিসা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণা দেশটিকে নতুনভাবে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরেছে।

একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা এখন টেকসই পর্যটনের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইকো-ট্যুরিজম, ওয়েলনেস, হেরিটেজ ও কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনের মাধ্যমে দেশটি দায়িত্বশীল ভ্রমণের একটি মডেল গড়ে তুলতে কাজ করছে।

২০২৫ সালে রেকর্ড ২ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন পর্যটক এবং ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জনের পর ২০২৬ সালে ৩০ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শ্রীলঙ্কা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশটির এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে যেকোনো দেশ সংকট কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে পারে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor