কক্সবাজারে পর্যটক খরা : সৈকত জুড়ে শুধু ঢেউয়ের শব্দ আর খালি চেয়ার-ছাতা

জাফর আলম Date: 17 May, 2026
কক্সবাজারে পর্যটক খরা : সৈকত জুড়ে শুধু ঢেউয়ের শব্দ আর খালি চেয়ার-ছাতা

কক্সবাজার :  দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে হঠাৎ পর্যটক খরা দেখা দিয়েছে। ভরা মৌসুমেও সমুদ্রসৈকত, হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছাড় দিয়েও পর্যটক না থাকায় হতাশা বিরাজ করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে।

সাধারণত এ সময় কক্সবাজারের সৈকত ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক থাকায় ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটক কমে গেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবও পড়েছে পর্যটন খাতে। গত দুই মাস ধরে পর্যটক সংকট চলছে। এতে শত কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। তবে ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটক বাড়বে বলে আশা করছি।

কলাতলী সমুদ্রসৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাহাব বলেন, মে মাসের শুরু থেকেই পর্যটক অনেক কম। আমরা যারা ঋণ নিয়ে ছোট ব্যবসা করছি, তারা এখন চরম বিপদে পড়েছি।

শহরের তারকা মানের স্বপ্নীল সিন্ধু হোটেলের দায়িত্বে থাকা আদনান শরিফ বলেন, এই মুহূর্তে হোটেলে তেমন বুকিং নেই। অন্য বছর এ সময়ে কিছুটা চাপ থাকে, কিন্তু এবার একেবারেই কম। অলস সময় পার করছি।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, “মৌসুমের মাঝামাঝি সময় হলেও এবার পর্যটক খরা চলছে। অতীতে সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে এত বেশি পর্যটক আসত যে অনেকে হোটেলে রুম না পেয়ে সৈকত, গাড়ি কিংবা সড়কের পাশে রাত কাটাতেন। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র। এতে আমরা চরম হতাশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তীব্র গরমের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্যও নিরাপত্তা, সেবার মান ও স্থিতিশীলতা জরুরি।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন— পর্যটন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং প্রচারণা জোরদার করা। দীর্ঘমেয়াদে সাসটেইনেবল ট্যুরিজমের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং বছরজুড়ে আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরি করা প্রয়োজন।

কক্সবাজারের পর্যটন খাত শুধু স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়, দেশের রাজস্ব ও কর্মসংস্থানেরও বড় উৎস। বর্তমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে না উঠলে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আরও আকর্ষণীয় ছাড়, উন্নত সেবা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি।

ব্যাবসায়ীরা বলছেন, এখন সৈকতজুড়ে শুধু ঢেউয়ের গর্জন, খালি চেয়ার-ছাতা আর নির্জনতা। পর্যটকদের কোলাহল থেমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন অলস সময়ের মুখে। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা সৈকত যেন আবার ফিরে গেছে তার চিরচেনা শান্ত রূপে।

-B
 

Share this post



Also on Bangladesh Monitor