ছুটির দিনে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

জাফর আলম Date: 02 May, 2026
ছুটির দিনে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আবার প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে। কয়েকদিনের ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বর্ষণের বিরতির পর সাপ্তাহিক ছুটিতে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে। নীল জলরাশি আর সোনালি বালুচরে এখন পর্যটকদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ঢেউ।

সৈকতজুড়ে বালুতে খেলা, সমুদ্রস্নান, ঘোড়ায় চড়া, জেটস্কি ও কিটকটে আড্ডায় মেতে উঠেছেন পর্যটকরা। 

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা আশরাফ গনি বলেন,  পরিবার নিয়ে এসে অসাধারণ সময় কাটছে। এটা মানসিক শান্তির জায়গা, যেখানে সমুদ্রের বাতাস সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।

আজ শনিবার (২ মে) ঢাকার মিরপুর থেকে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনারুজ্জামান পরিবার নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে খেলায় মেতেছেন। তিনি বলেন, ‘কর্মব্যস্ত জীবনে পরিবারের সদস্যদের তেমন একটা সময় দেওয়া হয় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাদের সময় দিতে ছুটে আসা সাগরতীরে। কক্সবাজারের আবহাওয়া ও পরিবেশ এখন ভ্রমণ উপযোগী।’ 

সোহাগ নামের অপর এক পর্যটক জানান, কক্সবাজারের সমুদ্র দেখলেই মনের সকল গ্লানি ভুলে সজীবতা ফিরে পাওয়া যায়। এখানে বারবার আসতে মন চায়।

তবে আনন্দের মাঝে সতর্কতার বার্তাও স্পষ্ট। বঙ্গোপসাগর এখনও উত্তাল, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থা সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টাঙিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করে দিয়েছে। 

লাইফগার্ড সদস্য রুহুল আমিন জানান, পানির স্রোত বেশি থাকায় কেউ যেন হাঁটু পানির বেশি গভীরে না যান এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে সমুদ্রস্নান না করেন। মাইকিং করে বারবার সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

এদিকে পর্যটকদের আকর্ষণে হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে আকর্ষণীয় ছাড়। অনেক প্রতিষ্ঠান ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছে। 

তারকা হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, লোডশেডিং কমে আসায় এবং আবহাওয়া উন্নতির কারণে বুকিং বেড়েছে। পহেলা মে ও শুক্রবারের ছুটিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং পুরো মাসজুড়ে পর্যটক আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের একজন উপপরিদর্শক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলোয় তৎপর রয়েছেন তাদের সদস্যরা। পর্যটকরা দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক সৈকতে ঘুরছেন। 

-B
 

Share this post



Also on Bangladesh Monitor