পূর্ণমাত্রায় ভিসা পরিষেবা চালুর পথে ঢাকা-দিল্লি

-মনিটর রিপোর্ট Date: 03 May, 2026
পূর্ণমাত্রায় ভিসা পরিষেবা চালুর পথে ঢাকা-দিল্লি

ঢাকাঃ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ২ বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ২ দেশই বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে শুরু হয়েছে পূর্ণমাত্রায় ভিসা পরিষেবা চালুর কার্যক্রম। 

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান শুরু করলেও, ভারত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে দেশটির দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরের সময় ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। বর্তমানে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগগুলো পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তা পুনরায় চালু হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে ব্যবসা, পর্যটন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিসা প্রদান করা হয়েছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বছর দুই আগে ভিসা পরিষেবা বিঘ্নিত হলেও তা কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বর্তমানে প্রাক-ডিসেম্বর পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় ভিসা প্রদান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা এবং পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রক্রিয়া গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২ দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা সফর করেন, যা সম্পর্কের উন্নয়নের একটি ইতিবাচক সংকেত ছিল।

 ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ২ দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং জ্বালানি সংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মেটাতে ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশে ডিজেল পাঠিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফর এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের বিদেশি পর্যটকদের ২০ শতাংশই আসে বাংলাদেশ থেকে। ২০২৩ সালে প্রায় ২১.২ লাখ বাংলাদেশি ভারত সফর করলেও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা বিধিনিষেধের কারণে এই সংখ্যা কমে ৪.৭ লাখে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারতীয় মিশনের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২ দেশের নীতিনির্ধারকরাই মনে করছেন, ভিসা কার্যক্রমের স্বাভাবিকীকরণ কেবল সাধারণ মানুষের যাতায়াতই সহজ করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার এই ২ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে মূল ভূমিকা পালন করবে।

-B

Share this post



Also on Bangladesh Monitor