ঢাকাঃ চলতি বছরের শুরুতে বলিভিয়ার একটি সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজটির পাইলট ও কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লা পাজের কাছে এল আলতো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে থেকে ছিটকে বিধ্বস্ত হয় সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন উড়োজাহাজটি।
বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লা পাজের বাইরে একটি জনবহুল এলাকায় উড়োজাহাজটির ফিউজেলাজের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
উড়োজাহাজটিতে ৬ কোটি ডলার সমমূল্যের বলিভিয়ান মুদ্রা বোঝাই ছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার পর হাজার হাজার নোট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শত শত স্থানীয় বাসিন্দা তখন টাকা কুড়িয়ে নিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভীড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
উড়োজাহাজটির ওই অর্থের চালান ছিল বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। পরে কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া নোটগুলো অবৈধ ঘোষণা করে।
প্রসিকিউটর ফ্যাভিও মালদোনাদো টেলিভিশন চ্যানেল ইউনিটেলে বলেন, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাইলট ও কো-পাইলটের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। শুক্রবার (১ মে) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে বিচারপূর্ব আটকাদেশ দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বলিভিয়ান বিমান বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ ক্রু সদস্য বহনকারী উড়োজাহাজ
টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। এ কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করেন পাইলট।
তিনি এ সময় সামনের চাকার ওপর বা নোজ গিয়ারে ভর দিয়ে উড়োজাহাজটি অবতরণ করার চেষ্টা করেন। যার ফলে ব্রেক ঠিকমতো কাজ করেনি। রানওয়ের একটি অংশ ভেজা থাকায় অবতরণের সময় উড়োজাহাজের চাকা পিছলে যায়।
অবশ্য তদন্ত বোর্ডের প্রধান কর্নেল রিচার্ড আলারকন চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ‘এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।’
-B