ছুটির দিনে জমজমাট অমর একুশে বইমেলার শিশু প্রহর

ঢাকাঃ ভাষার মাসের আয়োজন অমর একুশে বইমেলা–২০২৬ এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ঘিরে বেশ কয়েক দিন ধরেই আশায় বুক বেঁধে আছেন প্রকাশকেরা। তাদের প্রত্যাশা, এই দুদিন ছুটির দিন থাকায় কর্মব্যস্ত নগরবাসীর ঢল নামবে অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে। অবশ্য এই ছুটির দিন নয়; প্রতি বছরই ছুটির দিনে বইমেলায় বইপ্রেমীদের ঢল নামে।
এদিন সকালে শিশুপ্রহর থাকায় সকাল থেকেই দিনভর জমজমাট থাকে বইমেলা। সপ্তাহের অন্য দিনের ক্ষতি তারা ছুটির দিনে পুষিয়ে নেন।
এদিকে, শুক্র ও শনিবার মেলার ৮ম ও ৯ম দিনে পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ ছিলো না বলছেন প্রকাশকেরা। তবে শূন্যতা কাটিয়ে আবারও মেলায় প্রাণ ফেরার আশা তাদের।
মেলার কয়েকজন প্রকাশক জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ এখন কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে। ফলে বই কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে বিক্রিতে পরিবর্তন না এলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।
মেলায় প্রথমা প্রকাশনীর এক বিক্রয়কর্মী বলেন, “গত বছর প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বই বিক্রি হতো। কিন্তু এবার তার দশ ভাগের এক ভাগও বিক্রি করতে পারছি না।”
হতাশা প্রকাশ করে শিলা প্রকাশনীর নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যা বিক্রি হয়েছে, তা দিয়ে স্টলের স্টাফদের ইফতার কেনার টাকাও ওঠেনি।
বর্ণমালা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘রমজানে মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি আমাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের মেলায় অংশ নিয়ে আমরা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছি। সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্যের ব্যানারে আমরা ৩২১ জন প্রকাশক এবারের মেলায় অংশ নিতে চাইনি। বাংলা একাডেমি বিনা ভাড়ায় স্টল দিলেও স্টল নির্মাণের খরচটাও আমরা তুলতে পারব না। এরকম পরিস্থিতি করোনাকালীন মেলায়ও হয়নি।
এদিকে, এবারের বইমেলায় প্রতিদিনের মতো নতুন বই জমা দেওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত মেলায় নতুন বই জমা পড়েছে ১৯৯টি। সব মিলিয়ে এবারের অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ মোট নতুন বই জমা হয়েছে ৫৭৩টি।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনসহ বিশেষ প্রেক্ষাপটে এ বছর বইমেলা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও মেলাকে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, মেলার শেষভাগে দর্শক উপস্থিতি ও বই বিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রকাশক, লেখক ও পাঠকদের প্রত্যাশা—মেলার শেষের দিনগুলোতে দর্শনার্থী ও বই বিক্রি দুই-ই বাড়বে এবং ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাবে বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন।
নিষ্প্রভ মেলায় ছুটির দিনে জমজমাট শিশুপ্রহর
সামগ্রিকভাবে মেলা কিছুটা নিরুত্তাপ থাকলেও শিশুদের জন্য আয়োজিত ‘শিশুপ্রহর’ অনুষ্ঠানে ছিল ভিন্ন চিত্র। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবা-মায়ের হাত ধরে এদিন অনেক শিশু মেলায় আসে।
মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকে বাংলা একাডেমির বিপরীত পাশের গেইট থেকে একটু এগোলেই দেখা যায় কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পাপেট শো। সেখানে পুতুলনাচ দেখতে শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকরাও। পুতুলনাচের সঙ্গে গল্প আর বাদ্যযন্ত্রের শব্দে শিশুদের উচ্ছ্বাসে মেলা প্রাঙ্গণের একাংশ বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মায়ের হাত ধরে বইমেলায় এসেছিল ছোট্ট দুই বোন অঙ্কিতা ও লামিয়া। স্টল থেকে স্টল ঘুরে তারা শেষ পর্যন্ত ভূতের গল্পের বই ও ‘গুড্ডুবুড়া’ কিনেছে বলে জানায়।
অভিভাবকরাও এমন আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ছেলেকে নিয়ে মেলায় আসা সরকারি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের সুস্থ বিনোদনের আয়োজন থাকলে আমরা নিয়মিতই বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় আসতে পারি।” তিনি মনে করেন, শিশুদের জন্য এমন আয়োজন অব্যাহত থাকলে স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমে বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।
-B










